Tuesday, April 19, 2016

এ সময়ে মাছের ঝোল

গরমে স্বস্তি দেয় হালকা খাবার। এ সময় দেশি মাছের ঝোলের রান্না এনে দেবে ভিন্ন স্বাদ ও আরাম। রেসিপি দিয়েছেন কল্পনা রহমান
 
হাতে মাখা ট্যাংরার ঝোল
হাতে মাখা ট্যাংরার ঝোলউপকরণ ও পরিমাণ: ট্যাংরা মাছ ২৫০ গ্রাম, করলা (মাঝারি) ১টা, সরিষার তেল সিকি কাপ, পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল চামচ, বুন্দিয়া আলু ৮-১০টা, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ (চেরা) ৪-৫টা, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো ও সরিষাবাটা ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: মাছ কুটে ধুয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে। আলু হালকা সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। করলা কড়ে আঙুলের মতো লম্বা ও চিকন করে কেটে নিতে হবে। করলা বাদে সব উপকরণ হাত দিয়ে একসঙ্গে মাখিয়ে নিন। এবার হাত ধোয়ার পানিসহ ঢাকনা দিয়ে চুলায় বসাতে হবে। যখন ফুটে উঠবে, তখন করলাগুলো বিছিয়ে দিন। করলা সেদ্ধ হয়ে গেলেই নামিয়ে পরিবেশন করুন।
খেয়াল করুন– শোল বা টাকি মাছ হলে মাছগুলো ছোট টুকরা করে নিতে হবে। করলা সবুজ ও কিছুটা শক্ত অবস্থাতেই নামিয়ে নিন। কারণ, ভাপে বাকিটা সেদ্ধ হবে। করলা যত কম সময় চুলায় থাকবে, তিতা তত কম লাগবে।

লেবুপাতায় পাবদা
লেবুপাতায় পাবদা
উপকরণ ও পরিমাণ: পাবদা মাছ (মাঝারি) আধা কেজি, পেঁয়াজবাটা ৪ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, সয়াবিন তেল আধা কাপ, লেবুপাতা ২-৩টা, লেবুর রস ২ চা-চামচ, চিনি ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ৫-৬টা, লবণ প্রয়োজনমতো, মরিচ গুঁড়া দেড় চা-চামচ ও সরিষাবাটা ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: মাছ কুটে পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরাতে হবে। একটি ছড়ানো পাত্রের তেলে পেঁয়াজ কুচি হালকা ভেজে সব বাটা ও গুঁড়া মসলা ১ কাপ পানি দিয়ে কষান। মসলা ভুনা হয়ে যখন তেলের ওপর উঠবে, তখন লবণ দিয়ে নেড়ে মাছগুলো বিছিয়ে দিন। ঢেকে রান্না করতে হবে। ২ মিনিট পর কড়াই ঝাঁকিয়ে মাছের সঙ্গে মসলা মেশান। একবার মাছ সাবধানে উল্টিয়ে দিতে হবে। ঝোলের জন্য ১ কাপ গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন। ২ মিনিট পর লেবুর রস, চিনি ও কাঁচা মরিচ দিয়ে কড়াই ঝাঁকিয়ে মিশিয়ে দিতে হবে। সবশেষে লেবুপাতা ২ টুকরা করে দিয়ে ২-৩ মিনিট রান্নার পর যখন ঘ্রাণ বের হবে, তখন গরম-গরম পরিবেশন করুন।

মাগুর মাছে বড়ির ঝোল
মাগুর মাছে বড়ির ঝোল
উপকরণ ও পরিমাণ: মাগুর মাছ ৩-৪টা, বড়ি ১০-১৫টা, বেগুন ২টা, আলু ২টি, কাঁচা মরিচ ৫-৬টা, লবণ পরিমাণমতো, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, রসুনবাটা দেড় চা-চামচ, পেঁয়াজবাটা ৫ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ ও তেল ১ কাপ।
প্রণালি: বড়িগুলো অল্প তেল দিয়ে হালকা ভেজে রাখতে হবে। মাছ কেটে ভালোভাবে পানিতে পরিষ্কার করে টুকরা করে নিতে হবে। বেগুন ও আলু ডুমো করে কেটে সামান্য লবণ ও হলুদ মেখে ভেজে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পুড়ে না যায়। প্যানে বাকি তেল দিয়ে পেঁয়াজবাটা ২ মিনিট কষিয়ে নিন। বাকি মসলাগুলো পানি দিয়ে গুলিয়ে দিতে হবে। লবণ দিন। মসলার গন্ধ চলে গেলে মাছের টুকরাগুলো দিয়ে কষিয়ে বেশি করে ঝোল দিতে হবে। ফুটে উঠলে আলু ও বেগুন দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। একটু পর ভাজা বড়িগুলো কাঁচা মরিচ দিয়ে রান্না করতে হবে। সবজির বড়ি সেদ্ধ হয়ে পর্যাপ্ত ঝোল থাকা অবস্থায় লবণ চেখে ধনেপাতা অথবা জিরা গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। একটু পর গরম-গরম পরিবেশন করুন।
খেয়াল করুন– তরকারিতে যদি বেশি ঝোল না থাকে, তবে বড়ি ও আলুতে ঝোল টেনে নেবে।

নারকেলের ঝোলে কই
নারকেলের ঝোলে কই
উপকরণ ও পরিমাণ: কই মাছ ৬টা, ঘন নারকেলের দুধ ১ কাপ, সরিষাবাটা ৩ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, জিরাবাটা ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টা, চিনি ১ চা-চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, সরিষার তেল ১ কাপ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: মাছ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে মাছের গায়ে ছুরি দিয়ে ২-৩টি করে চিরে নিন। নারকেলের দুধ, হলুদ, মরিচ, সরিষা, জিরা, লবণ ও চিনি দিয়ে ভালোভাবে ফেটে নিতে হবে। মাছে লবণ ও হলুদ মেখে হালকা ভেজে মসলা মিশানো নারকেলের দুধে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। পাত্রে তেল দিয়ে পেঁয়াজ দিতে হবে। পেঁয়াজ যখন বাদামি হবে, তখন মসলাসহ মাছ দিয়ে ঢেকে দিন। এবার কাঁচা মরিচ দিন। মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে। মাছের সঙ্গে মসলা মিশে যখন তেলতেলে ভাব হবে, তখন নামিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

শিমের বিচিতে শিং মাছের ঝোল
শিমের বিচিতে শিং মাছের ঝোল
উপকরণ ও পরিমাণ: শিং মাছ ৩-৪টি, শিমের বিচি ১ কাপ, পাকা টমেটো ২টা, কাঁচা মরিচ ৫-৬টা, ধনেপাতা ১ মুঠ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া দেড় চা-চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ, রসুনবাটা দেড় চা-চামচ, তেল আধা কাপ, পেঁয়াজবাটা ২ টেবিল চামচ ও লবণ প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: মাছ কেটে ভালোভাবে ধুয়ে টুকরা করে নিতে হবে। শিমের বিচি ভিজিয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। টমেটো আস্ত গরম পানিতে ১ মিনিট সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে টুকরা করে নিন। পাত্রে তেল দিয়ে বাটা মসলা, গুঁড়া মসলা, ১ কাপ পানি ও টমেটো কুচি দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। যখন টমেটো গলে যাবে, তখন মাছ দিয়ে কষাতে হবে। মাছ কষানো হলে তুলে রেখে শিমের বিচি দিয়ে কষিয়ে ঝোল দিয়ে দিন। বিচি মোটামুটি সেদ্ধ হলে মাছ ও কাঁচা মরিচ দিতে হবে। ধনেপাতা দিন। একটু পর ঝোল ঝোল অবস্থায় নামিয়ে পরিবেশন।

গরমে ঠান্ডা

জান্নাতুল ফেরদৌস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে স্নাতক শেষ করেছেন। ২০০৬ সাল থেকে পরিবারের সঙ্গে আছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। ভালোবাসেন নতুন নতুন রেসিপিকে নিজের মতো করে ভিন্ন আঙ্গিকে তৈরি করতে। রান্না ও রেসিপি তৈরি তাঁর কাছে কিছুটা নেশার মতোই। ফেসবুকে নিজস্ব পেজ সুমিজ কুকিং আর্ট থেকে পাঠিয়েছেন নিচের রেসিপিগুলো।

ম্যাঙ্গো অ্যান্ড কোকোনাট পান্নাকোটা
ম্যাঙ্গো অ্যান্ড কোকোনাট পান্নাকোটাউপকরণ: ক. আমের ক্বাথ ১ কাপ (আমের টুকরা ব্লেন্ড করে নেওয়া), ক্রিম সিকি কাপ, চিনি এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ, আগার আগার পাউডার আধা চা-চামচ।
খ. নারকেলের দুধ ১ কাপ, ক্রিম সিকি কাপ, চিনি এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ, আগার আগার পাউডার আধা চা-চামচ।
প্রণালি: সার্ভিং কাপগুলোকে একটি মাফিন ট্রের ওপর একটু হেলে রাখতে হবে। একটি রান্নার পাতিলে ‘ক’ উপকরণগুলো একসঙ্গে নিয়ে খুব ভালো করে মেশান। এবার চুলায় দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে। একবার বলক উঠলে নামিয়ে প্রতিটি সার্ভিং কাপের মধ্যে, কাপের কিনারা পর্যন্ত ঢালুন। কাপগুলো ফ্রিজে রাখুন ১৫-২০ মিনিটের মতো।
এবার ‘খ’ উপকরণগুলো পাতিলে নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে। বলক ফুটে ওঠামাত্র নামিয়ে হালকা ঠান্ডা করে নিতে হবে। ফ্রিজ থেকে সার্ভিং কাপগুলো বের করে মাফিন ট্রে থেকে উঠিয়ে নিন। সেট হওয়া আমের মিশ্রণের ওপর নারকেল-দুধের মিশ্রণ ঢেলে দিয়ে আবার ফ্রিজে ১ ঘণ্টার মতো রাখতে হবে। আমের টুকরা ওপরে দিয়ে পরিবেশন করা যেতে পারে ম্যাঙ্গো অ্যান্ড কোকোনাট পান্নাকোটা।

স্ট্রবেরি লেমন স্কোয়াশস্ট্রবেরি লেমন স্কোয়াশ
উপকরণ : ৬-৭টি মাঝারি আকারের লাল স্ট্রবেরি, পুদিনা পাতা ৩-৪টি, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, চিনি আধা টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো অথবা সিকি চা-চামচ, বরফের টুকরা কয়েকটি, ঠান্ডা পানি পরিমাণ অনুযায়ী।
প্রণালি: ব্লেন্ডারে স্ট্রবেরি ও পুদিনা পাতা আধা কাপের মতো একসঙ্গে খুব ভালো করে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। দানা দানা ভাব যেন না থাকে। এই ব্লেন্ড করা মিশ্রণ থেকে ছাঁকনির মাধ্যমে স্ট্রবেরির জুস বের করে নিতে হবে। যে পরিমাণ জুস পাওয়া যাবে ঠিক সেই পরিমাণ ঠান্ডা পানি জুসের সঙ্গে মেশাতে হবে। এবার এতে লেবুর রস, লবণ ও চিনি দিয়ে ভালো করে মেশান। বরফকুচি দিয়ে পরিবেশন করুন ঠান্ডা স্ট্রবেরি
লেমন স্কোয়াশ।

ঝাল-মিষ্টির কয়েক পদ

       
সামিয়া রহমান। ১২ বছর ধরে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে। ছোটবেলা থেকেই রান্নার প্রতি ঝোঁক। মায়ের কাছে রান্নায় হাতেখড়ি নেওয়া। বর্তমানে নিজস্ব রেস্তোরাঁ ‘ফ্যামিলি রেস্টুরেন্ট’ চালাচ্ছেন।

ক্রিম ব্রুলে

ক্রিম ব্রুলে
উপকরণ: ডিমের কুসুম ৪টি, চিনি ৫ টেবিল-চামচ, ভারী ক্রিম ২ কাপ ও ভ্যানিলা এসেন্স আধা চা-চামচ।
প্রণালি: ওভেন ৩০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে গরম করে নিন। একটি বাটিতে ডিমের কুসুম ও চিনি ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার ক্রিম আর ভ্যানিলা এসেন্স তৈরি করা মিশ্রণের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে দিন। মিশ্রণটি এখন ৪টি রামিকিনে (কাপ) ঢালুন। রামিকিনগুলোকে পানিসহ বেকিং প্যানে বসিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট বেক করুন। এবার বাটিগুলো নামিয়ে ২ ঘণ্টা ফ্রিজে ঠান্ডা করুন। পরিবেশন করার আগে কিছু চিনি ছড়িয়ে নিয়ে রামিকিনগুলোকে ব্রয়লারে রাখুন চিনি পুড়িয়ে বাদামি রং করার জন্য। যাঁদের কিচেন টর্চ আছে তাঁরা ওটা দিয়েও ওপরের ক্যারামেল ক্রাস্ট করে নিতে পারেন। গরম অথবা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
ভারজিন পিনা কোলাডা

ভারজিন পিনা কোলাডা
উপকরণ: আনারসের রস ২ কাপ, চিনি সিরাপ ৪ টেবিল-চামচ, লেবুর রস ২ চা-চামচ, নারকেল দুধ ৫ টেবিল-চামচ ও বরফ কিউব ১০টা।
প্রণালি: একটি ব্লেন্ডারে বরফের টুকরোগুলো এবং অন্য সব উপাদান একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন। এবার সারভিং গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।

বাফেলো কলিফ্লাওয়ার

বাফেলো কলিফ্লাওয়ার
উপকরণ: ফুলকপি ১টি (ছোট), ময়দা ৪ টেবিল-চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ৩ টেবিল-চামচ, লবণ আধা চা-চামচ, পানি ১ কাপের মতো, হট সস ১ কাপ, গার্লিক ফ্লেভার সস ২ টেবিল-চামচ, টমেটো কেচাপ ১ টেবিল-চামচ ও তেল (ভাজার জন্য) পরিমাণমতো।
প্রণালি: ফুলকপি ছোট টুকরা করে কেটে নিয়ে লবণপানিতে ভিজিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। তারপর ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার, লবণ, পানি দিয়ে একটা মিশ্রণ বানিয়ে নিন। এই মিশ্রণে ফুলকপিগুলো ডুবিয়ে তেলে ভেজে নিন। এবার হট সস, গার্লিক ফ্লেভার সস, টমেটো কেচাপ একসঙ্গে মিশিয়ে ভাজা ফুলকপির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। গরম-গরম পরিবেশন করুন ঝাল বাফেলো কলিফ্লাওয়ার।

হাওয়াইন চিকেন কাবাব
হাওয়াইন চিকেন কাবাব
উপকরণ: হাড়ছাড়া মুরগির মাংস (কিউব করা) ২ কাপ, আনারস (কিউব করা) ১ কাপ, পেঁয়াজ ১টি (কিউব করে কাটা) ও ক্যাপসিকাম ১টি (কিউব)।
মেরিনেট করার জন্য: লবণ স্বাদমতো, ওয়েস্টার সস ১ চা-চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, মধু ১ চা-চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, সাসলিকের কাঠি প্রয়োজনমতো ও তেল ১ টেবিল-চামচ।
প্রণালি: মুরগির সঙ্গে সবকিছু মাখিয়ে মেরিনেট করে ৩০ মিনিট রাখুন। তারপর সবকিছু একসঙ্গে কাঠিতে আটকে নিন। ননস্টিক প্যান অথবা গ্রিলে গ্রিল করে নিন ৪-৫ মিনিট। গরম-গরম পরিবেশন করুন।

বিটরুটে ভিন্ন স্বাদ

বাজারে পাওয়া যায় বিটরুট। পরিচিত খাবারে একটু ভিন্নতা নিয়ে আসতে পারে বিটরুট। দেখে নিতে পারেন ফাতিমা আজিজের রেসিপিগুলো
 
                                                           প্রস্তুতি: ২০ মিনিট
বিটরুট পনির কচুরি
রান্না: ১০ মিনিট
বিটরুট পনির কচুরি
উপকরণ: ময়দা ২ কাপ, বেকিং পাউডার আধা চা-চামচ, লবণ সোয়া চা-চামচ, পানি পরিমাণমতো, তেল ৫ টেবিল চামচ (ভাজার জন্য) ও ঝুরি করে ভাপানো বিটরুট ২ টেবিল চামচ।
পুরের উপকরণ: ঝুরি করা আদা ২ টেবিল চামচ, ময়দা সিকি কাপ, ঝুরি করা পনির ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, ঝুরি করা বিটরুট সিকি কাপ, লবণ সিকি চা-চামচ, মাখন ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: মাখন ও পনির বাদে একটি মিক্সিং বোলে পুরে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে মেখে নিন। প্যানে মাখন গলিয়ে পুরের মিশ্রণ দিয়ে ৫-৭ মিনিট ভেজে নামানোর আগে ঝুরি করা পনির দিয়ে নেড়ে চুলা বন্ধ করে দিন। ঠান্ডা হলে ১৬টি ভাগ করুন। ময়দার সঙ্গে লবণ ও বেকিং পাউডার মিশিয়ে নিন। এবার তেলের ময়ান দিয়ে ভাপানো ঝুরি করা বিটরুট পানি দিয়ে ময়দার সঙ্গে মথে নিন। ছানা হয়ে গেলে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার ১৬টি ভাগ করুন। ডোয়ের একেকটি ভাগ হাতের তালুতে নিয়ে গোল করে তার ভেতরে বিটরুটের পুর দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। তারপর হাতের তালুতে রেখেই এক হাতের তালু থেকে অন্য হাতের তালুতে নিয়ে চেপে চেপে চ্যাপ্টা করে কচুরি তৈরি করুন। অথবা বেলুনি দিয়ে বেলেও ছোট ছোট কচুরি তৈরি করে ডুবো বা সেঁকা তেলে ভেজে পরিবেশন করতে পারেন। চাইলে সালাদ অথবা পুদিনা পাতার চাটনি দিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

বিটরুট প্রন রাইস
প্রস্তুতি: ৪০ মিনিট
রান্না: ৩০ মিনিট
বিটরুট প্রন রাইস
উপকরণ: বাসমতী চাল ২৫০ গ্রাম, পানি ৫০০ মিলিলিটার, ঝুরি করা বিটরুট (বড়) ১টি, পেঁয়াজ স্লাইস (বড়) ১টি, গোটা জিরা ১ চা-চামচ, এলাচি ৪টি, দারুচিনি (২ সেমি) ১ টুকরো, লাল মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনে গুঁড়া আধা টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ২টি, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, রোস্টেড কাজুবাদাম সিকি কাপ, মাখনে ভাজা চিংড়ি মাছ, ১ কাপ ও তেল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি: চাল ধুয়ে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। প্যান বা কড়াইয়ে তেল গরম করে এলাচি, দারুচিনি ও গোটা জিরার ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ স্লাইস হালকা সোনালি করে ভেজে কাঁচা মরিচ দিন। কিছুক্ষণ নেড়ে লাল মরিচের গুঁড়ো ও ধনে গুঁড়ো দিয়ে মিশিয়ে ভালো করে নাড়ুন। কষানো হয়ে গেলে ঝুরি করা বিটরুট দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে রান্না করুন। তারপর ভিজিয়ে রাখা চাল ভালো করে ঝরিয়ে নিয়ে প্যানে ঢেলে লবণ দিয়ে বিটরুটের মিশ্রণে মিশিয়ে কিছুক্ষণ ভেজে নিয়ে পানি দিন। ২-১ বার ফুটে উঠলে ঢেকে দিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে পৌনে ১ কাপ মাখনে ভেজে রাখা চিংড়ি মাছ ও সিকি কাপ কাজুবাদাম দিয়ে আরও কিছুক্ষণ বা মিনিট পাঁচেক ঢেকে রাখুন। তারপর ঢাকনা খুলে ভাত ঝরঝরে হলে বড় হাতলওয়ালা চামচ বা বড় কাঠের চামচ দিয়ে এপিঠ-ওপিঠ করে নাড়ুন বা কেটে দিন। খেয়াল রাখবেন ভাতের সঙ্গে চিংড়ি মাছ ও কাজুবাদাম যেন মিশে যায়। তারপর আবার ঢেকে দিন। ৫-১০ মিনিট দমে রেখে ডিশে বেড়ে ওপরে বাকি চিংড়ি মাছ ও কাজুবাদাম দিয়ে মনের মতো করে সাজিয়ে রায়তা অথবা রাশিয়ান সালাদের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

বিটরুট বিফ প্যাটিপ্রস্তুতি: ১৫ মিনিট
রান্না: ১২ মিনিট
বিটরুট বিফ প্যাটি
উপকরণ: গরুর মাংসের কিমা ৫০০ গ্রাম, কাঁচা পেঁপে বাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ মিহি স্লাইস ২টি, ধনেপাতা কুচি ১ মুঠি, ঝুরি করা ভাপানো বিটরুট ১ কাপ, পুদিনা পাতা কুচি ১ মুঠি, কাঁচা মরিচ কুচি ২টি, ডিমের সাদা অংশ (ফেটানো) ১টি, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, সিজেনিং সস ২ চা-চামচ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, আদার রস ২ চা-চামচ, তেল ভাজার জন্য, পাউরুটি স্লাইস ২ টুকরো (গুঁড়ো করে নেওয়া) ও লেবুর রস ২ চা-চামচ।
প্রণালি: তেল বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে মেখে ঘণ্টা খানেক রেখে দিন। ঢাকনাসহ একটি মাঝারি প্যানে পানি ফুটিয়ে নিন। ঢাকনাটি একটা সুতি কাপড় দিয়ে মুছে তাতে তেল মেখে নিন। এবার বিটরুট ও মাংসের মিশ্রণকে বড় বড় চার থেকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করুন। হাতের তালুতে পানি মেখে একটি করে ভাগ নিয়ে গোল করে চ্যাপ্টা করুন। এভাবে প্রতিটি প্যাটি তৈরি করুন। ঢাকনার ওপরে সাজিয়ে ফোটানো পানির হাঁড়ির ওপরে রেখে একটি বড় অ্যালুমিনিয়ামে সরা বা বল দিয়ে ঢেকে দিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চুলা বন্ধ করে স্টেক বা প্যাটিগুলো উঠিয়ে সেঁকা তেলে ভেজে বা গ্রিল প্যানে গ্রিল করে নিন। এবার বান রুটিতে মেয়নেজ লাগিয়ে লেটুস পাতা বিছিয়ে স্টেক বা প্যাটি দিয়ে বার্গার তৈরি করে পরিবেশন করুন। এই স্টেক বা প্যাটি সরাসরি গ্রিল করে বা সেঁকা তেলে ভেজেও বার্গার তৈরি করা যায়। আগে থেকে মেরিনেট করে রাখলে যেকোনো সময়ে ফ্রিজ থেকে বের করে ভেঁজে নিতে পারবেন।

মিক্সড বেক্ড সবজি
প্রস্তুতি: ১৫ মিনিট
রান্না: ৪৫ মিনিট
মিক্সড বেক্ড সবজি
উপকরণ: ফুলকপি ১টি, বাঁধাকপি আধা পিস, বিট (বড়) ১টি, মটরশুঁটি আধা কাপ, গাজর আধা কাপ, ব্রুকলি ১টি, আদা বাটা ১ চা-চামচ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, পেঁয়াজ (বেরেস্তা) আধা কাপ, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, চিনি ১ চা-চামচ, স্বাদ অনুযায়ী ব্রেড ক্রাম্ব দেড় কাপ, গার্লিক হোয়াইট সস দেড় কাপ, মাখন ২ টেবিল চামচ, রোস্টেড কাজুবাদাম সিকি কাপ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, মাখন ভেজে নেবেন।
প্রণালি: সবজি ধুয়ে পানি ঝরিয়ে কেটে নিন। (সবজিগুলো চায়নিজ সবজির মতো কেটে নিতে হবে) সবজিগুলো লবণ দিয়ে ভাপ দিয়ে নিন। কিন্তু কোনো পানি ব্যবহার করবেন না। হাঁড়িতে বা প্যানে মাখন গলিয়ে ভাপানো সবজি ও বেরেস্তা দিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে পাঁচ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন। কাজুবাদাম ও কিশমিশ দিয়ে মিশিয়ে নিন। সবজি ঠান্ডা হলে বেকিং ট্রেতে মাখন ব্রাশ করে প্রথমে সবজি ও কাজু কিশমিশের অর্ধেক মিশ্রণ তাতে বিছিয়ে নিন। তার ওপর গার্লিক হোয়াইট সস ছড়িয়ে দিয়ে বিস্কুটের গুঁড়ো ছিটিয়ে দ্বিতীয় স্তরে একইভাবে সবজি বিছিয়ে হোয়াইট সসের লেয়ার তৈরি করুন। এবার বিস্কুটের গুঁড়ো ছিটিয়ে প্রি-হিটেড ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ৩৫ মিনিট বেক করুন। নামিয়ে বেকিং ট্রেতেই পরিবেশন করুন পোলাও অথবা ভাতের মতো।

বিটরুট সন্দেশ
প্রস্তুতি: ২০ মিনিট
রান্না: ৪০ মিনিট
বিটরুট সন্দেশ
উপকরণ: ছানা ৫০০ গ্রাম, দুধ ৫০০ গ্রাম, (২ লিটার দুধকে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে ৩ কাপ), কনডেন্সড মিল্ক আধা কাপ + ৩ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, জাফরান দেড় চা-চামচ, ডিম ৬টি, মাওয়া আধা কাপ, গুঁড়ো দুধ আধা কাপ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, তবক (ঐচ্ছিক), সাজানোর জন্য ঘি/মাখন আধা কাপ।
প্রণালি: বিটরুট ধুয়ে ছিলে ঝুরি করে নিন। দুধ ঘন করে ২ কাপ দুধ আলাদা উঠিয়ে রাখুন। বাকি ১ কাপ দুধের সঙ্গে ঝুরি করা বিটরুট সিদ্ধ করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। ছানা হাত দিয়ে ভালো করে ছেনে নিন। ১ কাপ ঘন দুধে ৬টি ডিম ফেটে নিন। বাকি ১ কাপ দুধে ৩ টেবিল চামচ কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে আলাদা রাখুন। এই মিশ্রণে আধা চা-চামচ জাফরান মিশিয়ে রাখুন। প্যানে ঘি বা মাখন গলিয়ে ১ চা-চামচ জাফরানের ফোড়ন দিয়ে তাতে ব্লেন্ড করা বিটরুট দিয়ে বেশ খানিকক্ষণ ভেজে নিয়ে চিনি ও ছানা দিয়ে মিশিয়ে ঘন ঘন নাড়ুন। এবার গুঁড়ো দুধ দিয়ে অনবরত নাড়ুন। এদিকে একটি ট্রে বা পাত্রে ঘি মেখে রাখুন। বিটরুট ও ছানার মিশ্রণ আঠালো হয়ে এলে ঘি ব্রাশ করা ট্রেতে ঢেলে চারপাশ ও উপরিভাগ খুন্তি দিয়ে চেপে চেপে সমান করুন। খুন্তিতে একটু ঘি মেখে নেবেন। এবার অন্য একটি প্যানে বাকি ১ কাপ দুধ ও কনডেন্সড মিল্কের মিশ্রণ ঢেলে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। তারপর ময়দা দিয়ে অনবরত নাড়ুন যেন ময়দা দলা না পাকায়। ঘন হয়ে এলে মাওয়া দিয়ে দ্রুত নেড়ে নামিয়ে ট্রেতে রাখা বিটরুটের মিশ্রণের ওপর ঢেলে চারপাশ ও উপরিভাগ সমান করে ঠান্ডা হলে চারকোনা করে কেটে ইচ্ছে হলে তবক দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

হালকা তিন পদ

ফারহানা রহমান, রাজশাহীর মেয়ে। বিয়ের দুই বছর পর ২০০৯ সালে চলে যান অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। সেই থেকে প্রবাসী। পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি সাহিত্যে। ভালোবাসেন দেশি-বিদেশি খাবার রান্না করতে এবং বিভিন্ন নতুন খাবার নিয়ে নিরীক্ষা করতে। এবারে দেওয়া হলো ফারহানা রহমানের তিনটি রেসিপি।
 
.
আপেল সিনামন পিলোস
ভেতরের পুরের জন্য উপকরণ
: আপেল ২টি (বড় আকারের), দারচিনি গুঁড়া ১ চা-চামচ, চিনি আধা কাপ, সাদা ভিনেগার ১ টেবিল-চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, লবণ ১ চিমটি, লেবুর জেস্ট (লেবুর খোসা মিহি করে কাটা) আধা চা-চামচ ও ময়দা ১ টেবিল-চামচ।
রুটি তৈরির উপকরণ: সাদা পাউরুটি ৮টি, ডিম ১টি, বেকিং পাউডার ১ চিমটি, লবণ ১ চিমটি, পাউরুটির গুঁড়া ১ কাপ ও তেল ভাজার জন্য।
প্রণালি: প্রথমেই ভেতরের পুর বানিয়ে নিন। এর জন্য আপেলগুলো ভালোমতো ছিলে, কুচি করে ফেলতে হবে। এবার ময়দা ছাড়া পুরের জন্য নেওয়া সব উপকরণ কুচি করা আপেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে। আপেলের পানি শুকিয়ে সেদ্ধ হলে তাতে ময়দা দিয়ে দিন। সম্পূর্ণ পানি শুকিয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে।
প্রতিটি পাউরুটির টুকরা রুটি বানানোর বেলন দিয়ে যতটা সম্ভব চ্যাপ্টা করে বেলে নিন। এবার বাদামি পাশগুলো কেটে সরিয়ে ফেলুন। একটি রুটির এক পাশে হালকাভাবে পানি লাগিয়ে নিন। এবার ওই পানির দিকেই আপেলের পুর দিয়ে পাউরুটিটি মুড়িয়ে চেপে চেপে এক প্রান্তের সঙ্গে আরেক প্রান্ত লাগিয়ে দিন। এবার দুই পাশের শেষ মাথাগুলো টিপে জোড়া লাগিয়ে দিন। দেখতে বালিশের মতো হবে। এবার ডিম, লবণ, বেকিং পাউডার একসঙ্গে ফেটান। বানানো ব্রেড পিলোটি এই মিশ্রণটিতে ডুবিয়ে পাউরুটির গুঁড়ার ওপর গড়িয়ে নিন। ফ্রিজে ১০ মিনিট রেখে ডুবো তেলে মাঝারি তাপে সোনালি করে ভেজে পরিবেশন করুন।

তন্দুরি মাটন চপ
তন্দুরি মাটন চপ
উপকরণ: পাতলা হাড়সহ খাসির মাংস ৮ টুকরা, আদাবাটা ১ টেবিল-চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল-চামচ, জিরাবাটা আধা চা-চামচ, টক দই আধা কাপ, লেবুর রস ১ টেবিল-চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ টেবিল-চামচ, লাল পাপড়িকার গুঁড়া ১ টেবিল-চামচ, তেল ২ টেবিল-চামচ, গরম মসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, জায়ফল গুঁড়া আধা চা-চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া আধা চা-চামচ, সামান্য কমলা রং ও লবণ স্বাদমতো।
প্রণালি: মাংসে সব উপকরণ ভালোমতো মাখিয়ে সারা রাত ফ্রিজে ঢেকে রেখে দিন। পরদিন কয়লার আগুনে ঝলসিয়ে নিন। আবার চুলায় ছড়ানো ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেল দিয়ে মাঝারি আঁচে পোড়া পোড়া করে ভেজে নিতে পারেন। পছন্দমতো সালাদ এবং রুটি দিয়ে পরিবেশন করুন।

অরিও অরেঞ্জ চিজকেক

অরিও অরেঞ্জ চিজকেকউপকরণ: কেকের নিচের ক্রাস্টের জন্য: অরিও চকলেট বিস্কুটের মিহি গুঁড়া দেড় কাপ ও গলানো মাখন ১০০ গ্রাম।
কেকের জন্য: ফিলাডেলফিয়া বা যেকোনো ক্রিম চিজ বার ২টা, ডিম ৩টি, গলানো মাখন ২ টেবিল-চামচ, চিনি ১ কাপ, আইসিং সুগার ২ টেবিল-চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা-চামচ, আধা কাপ কমলার রস ও কমলার জেস্ট ১ টেবিল-চামচ।
প্রণালি: প্রথমেই ইলেকট্রিক ওভেন প্রিহিট করে নিন। এবার বিস্কুটের গুঁড়ার সঙ্গে গলানো মাখন মিশিয়ে নিয়ে কেকের বাটিতে চেপে চেপে এই মিশ্রণটি সমান করে বসান। ১৮০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ১০ মিনিট বেক করুন। হয়ে গেলে বাটি বের করে ঠান্ডা হতে দিন। চিজ কেকের জন্য পাশের রিং খোলা যায় এমন মোল্ড ব্যবহার করা ভালো। তবে এটি না থাকলে সাধারণ মোল্ডে বেকিং পেপার বিছিয়েও করতে পারেন।
এবার কেকের মিশ্রণ বানিয়ে নিন। বড় বাটিতে ক্রিম চিজ খুব ভালোমতো ফেটিয়ে নিন। ক্রিম চিজ নরম করার জন্য ১ মিনিট মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করুন। বিট করার জন্য ইলেকট্রিক বিটার ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো। কমলার রস ও জেস্ট দিয়ে দিন। আরও একটু ফেটান। এবার আইসিং সুগার, চিনি দিয়ে ফেটাতে থাকুন। চিনি গলে গেলে একটা একটা করে ডিম মেশান। এরপর ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে দিন। শেষে মাখন মেশান। এই মিশ্রণ বেক করা বিস্কুটের ওপর ঢেলে প্রিহিটেড ইলেকট্রিক ওভেনে ১৬০ থেকে ১৭০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ৩০-৩৫ মিনিট বেক করুন। বেক করার সময় একটি ট্রের ভেতর গরম পানি দিয়ে তার ওপর কেকের বাটি বসিয়ে দিন। কেক হয়ে গেলে ৫-৬ ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন। এর আগে মোল্ড থেকে বের করবেন না।

এবার ওপরের অরেঞ্জ সিরাপ বানিয়ে নিন। আধা কাপ চিনি এবং এক কাপ পানি ফুটান। একটি কমলা কুচি করে এতে দিন। আরও একটি কমলা গোল গোল করে কেটে সিরাপের ভেতর দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ জ্বাল দিতে হবে। কমলা সেদ্ধ হয়ে গেলে গোল পিসগুলো তুলে নিন। আর বাকি কমলাসহ পানি ব্লেন্ড করে ফেলুন। এরপর ব্লেন্ড করা পানি আবার জ্বাল দিয়ে ঘন করে কেকের ওপর ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। পরিবেশনের সময় শিরায় সেদ্ধ করা কমলা ওপরে সাজিয়ে দিন।

সালাদ দেবে স্বস্তি

নানা ধরনের সালাদ হতে পারে গরমের এই সময়টার আদর্শ খাবার৷ এমনই কিছু সালাদের রেসিপি দিয়েছেন হোটেল আমারি ঢাকার নির্বাহী শেফ কৃষ্ণমূর্তি দামারজাতি
 
মুচমুচে ভিয়েতনাম স্প্রিং রোল, ঝাল চিংড়ি ও লাইম চিলি সস
মুচমুচে ভিয়েতনাম স্প্রিং রোল, ঝাল চিংড়ি ও লাইম চিলি সসউপকরণ: রাইস পেপার রোল ৪টি, লেটুস কুঁচি ১০ গ্রাম, জুলিয়ান করে কাটা ক্যাপসিকাম ও পেয়াজঁ ৫ গ্রাম, ধনেপাতা ৩ গ্রাম এবং সিমের বিচি ১০ গ্রাম৷
সসের জন্য: ফিস সস স্বাদমতো, লাইম জুস স্বাদমতো, চিনির সিরাপ ৩০ মিলিলিটার, রসুন কুঁচি ৫ গ্রাম, ধনেপাতার শেকড় ৫ গ্রাম, লালমরিচ ১টি ও সেদ্ধ চিংড়ি ৪ থেকে ৫ টুকরো৷
প্রণালী: প্রথমেই রাইস পেপারটিকে গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন৷ এবার সবজি ও চিংড়ি একসঙ্গে করে রাইস পেপারে ঢুকিয়ে রোল করে মুড়ে নিন৷
সস: সব উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন৷

সম টম সালাদ উইথ টাইগার প্রণ
সম টম সালাদ উইথ টাইগার প্রণউপকরণ: পেঁপে কুঁচি ১০০ গ্রাম, সিম ২ সেন্টিমিটার লম্বা করে কাটা ২০ গ্রাম, চেরি টমেটো ২০ গ্রাম, গাজর কুঁচি ১০ গ্রাম, লাল মরিচ ২ গ্রাম, ভাজা বাদাম ৫ গ্রাম, লাইম রস, ফিস সস ও চিনি স্বাদমতো, রসুন ৫ গ্রাম, টাইগার প্রণ মাথা এবং চামড়া বাদে ১২০ গ্রাম৷
প্রণালি: পেঁপের খোসা ছাড়িয়ে তা কুঁচি কুঁচি করে নিন৷ একটা পাত্রে পেঁপে, সিম, চেরি টমেটো, গাজর, রসুন, বাদাম এবং মরিচ মিশিয়ে নিন৷ সব উপকরণ ভালো করে মেশানোর পর লেবুর রস, ফিস সস এবং চিনি মিশিয়ে নিন৷ এবার চুলায় পাত্র বসিয়ে ভালো করে চিংড়িগুলো ভেজে নিন৷ সালাদের বাকি উপকরণের সঙ্গে চিংডি মিশিয়ে নিন৷

তরমুজ পুদিনার ফেটা সালাদ
তরমুজ পুদিনার ফেটা সালাদউপকরণ: পেঁয়াজ ২টি, লাল ভিনেগার পরিমাণমতো, তরমুজ ৫০০ গ্রাম, কুড়ানো পনির ২৫০ গ্রাম, পুদিনাপাতা ১০ গ্রাম, পার্সলে পাতার কুঁচি ৫ গ্রাম, জলপাই তেল ১০ গ্রাম, ভাজা আমন্ড কুঁচি ২০ গ্রাম, গোলমরিচ গুঁড়া ১০ গ্রাম ও লবণ ৫ গ্রাম৷
প্রণালি: প্রথমেই পেঁয়াজগুলো অর্ধেক করে কেটে নিন৷ স্কুপার দিয়ে তরমুজ গোল গোল করে কেটে নিন৷ এবার একটা পাত্রে সব উপকরণ মিশিয়ে নিন৷ স্বাদমতো লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে দিন৷ রসুনবাটা এবং বাদামের গুঁড়া দিয়ে পরিবেশন করুন৷

সাউদার্ন ষ্টাইল থাই পটেটো সালাদ
সাউদার্ন ষ্টাইল থাই পটেটো সালাদউপকরণ: বাতাবি লেবু বা জাম্বুরা ১৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ ১০ গ্রাম, গোল করে কাটা পেঁয়াজের টুকরো ৫ গ্রাম, লাল মরিচ ১টি, মরিচ তেল ১০ মিলিলিটার, নারকেল দুধ ১০ মিলিলিটার, ফিস সস ৫ মিলিলিটার, লেবুর রস, লবণ ও চিনি স্বাদমতো৷
প্রণালি: জাম্বুরার খোসা ছিলে নিন৷ এবার পাত্রে জাম্বুরা, পেঁয়াজ ও মরিচ মিশিয়ে নিন৷ চিলি অয়েল, নারকেল দুধ, ফিস সস এবং লেবুর রস ঢেলে দিন৷ এবার জাম্বুরার মিশ্রণে লবণ ও চিনি দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন৷
 
ক্রিসপি অর্গানিক গ্রিক সালাদ উইথ ক্র্যামবেলড ফেটা
ক্রিসপি অর্গানিক গ্রিক সালাদ উইথ ক্র্যামবেলড ফেটাউপকরণ: টমেটো ও শসা ১৫০ গ্রাম, পেয়াঁজ ১০০ গ্রাম, ক্যাপসিকাম ৭৫ গ্রাম, পুদিনাপাতা ২৫ গ্রাম, জলপাই ১৩০ গ্রাম, লবণ ১৫ গ্রাম, জলপাই তেল ৫০ মিলিলিটার, কুড়ানো পনির ১৫০ গ্রাম, শুকনো অরিগ্যানো ৩ গ্রাম, গোলমরিচ গুঁড়া ৫ গ্রাম, লেমন জুস ১৫ মিলি ও লেটুসপাতা  ১০০ গ্রাম ৷
প্রণালি: শসা, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও টমেটো একসঙ্গে কেটে নিতে হবে৷ লেটুসপাতা হালকা কুঁচি করে নিন৷ জলপাই থেকে বিচি বের করে নিয়ে অর্ধেকটা কেটে নিন৷ সালাদের উপকরণগুলো একটা পাত্রে নিয়ে ভালো করে ঝাঁকুনি দিয়ে বাকি উপকরণগুলো মিশিয়ে নিন৷ সালাদের পাত্রে পুরো সালাদ ঢেলে পুদিনাপাতা ছড়িয়ে দিন৷

দইয়ে জুড়াবে প্রাণ

গরমে দই প্রাণ জুড়ানোর মতোই খাবার। দই দিয়ে বানানো যায় মজার অনেক খাবার। সে রকম কিছু খাবারের রেসিপি দিয়েছেন শুভাগতা দেবাশীষ


                                                          প্রস্তুতি: ৩০ মিনিট 
চকলেট দই
তৈরি: ৬ ঘণ্টাচকলেট দইউপকরণ: দুধ ১ লিটার, চিনি ২০০ গ্রাম, কোকো পাউডার ২ টেবিল চামচ, টকদই সাড়ে ৩ চা-চামচ, চকলেট চিপস পরিমাণমতো (সাজানোর জন্য)।
প্রণালি: দুধ আর চিনি একসঙ্গে হাঁড়িতে বসাতে হবে। চিনি গলে গেলে চকলেট পাউডার দুধে গুলিয়ে ঢালতে হবে। পরে সমানে নাড়তে হবে। ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে দিতে হবে। মাঝেমধ্যে নাড়তে হবে। দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নামিয়ে নিতে হবে। কুসুম কুসুম গরম থাকতেই টকদই দিয়ে দই বসতে দিন। দই জমে গেলে ফ্রিজে রাখুন। ঠান্ডা হলে চকলেট চিপস ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

দই-মুরগি
প্রস্তুতি: ২০ মিনিটরান্না: ২০ মিনিটদই-মুরগিউপকরণ: বড় মুরগি ১টি ১ কেজি, দই বড় এক কাপ, রসুনবাটা ৩ টেবিল চামচ, কাশ্মীরি লঙ্কাবাটা ৬ টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ, লবণ স্বাদমতো ও চিনি ২ চামচ।
প্রণালি: মুরগি কেটে পরিষ্কার করে ধুয়ে লবণ, দই ও রসুনবাটা মাখিয়ে ১ ঘণ্টা মেরিনেট করতে হবে। কড়াইতে তেল গরম পেঁয়াজ কচি দিয়ে সোনালি করে ভেজে তুলে রাখতে হবে। ওই তেলে মরিচবাটা ও চিনি দিয়ে ভালো করে কষাতে হবে। সুন্দর গন্ধ বেরোলে মেরিনেট করা মাংস দিয়ে ভালো করে নাড়তে হবে। চুলার আঁচ কমিয়ে ভাজা পেঁয়াজের অর্ধেক দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। মুরগি সেদ্ধ হলে পানি শুকিয়ে তেল বেরিয়ে এলে নামিয়ে ফেলতে হবে। বাকি অর্ধেক বেরেস্তা করা পেঁয়াজ মুরগির ওপরে ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।


দই-চিংড়ি
প্রস্তুতি: ২০ মিনিটরান্না: ১৫ মিনিটদই-চিংড়িউপকরণ: চিংড়ি ৫০০ গ্রাম, তেজপাতা ২টি, আস্ত গোলমরিচ ৩-৪টি, বড় এলাচ ৪টি, পেঁয়াজ কুচি চার টেবিল চামচ, আদাবাটা ২ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ চা-চামচ, কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, টকদই ১৫০ গ্রাম, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, কিশমিশ ১৫-২০টি, গরম মসলা ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো ও তেল আধা কাপ।
প্রণালি: তেল গরম হলে তেজপাতা, গোলমরিচ, বড় এলাচ ফোড়ন দিন। ফোড়নের মধ্যে পেঁয়াজবাটা দিয়ে ভাজতে হবে। গোলাপি রং হলে আদাবাটা দিয়ে আরও ২-৩ মিনিট নাড়াচাড়া করতে হবে। এবার হলুদ ও মরিচের গুঁড়া এবং লবণ দিয়ে কিছুক্ষণ কষানো হলে ফেটানো দই দিতে হবে। সব মিশে গেলে ১ কাপ গরম পানি দিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে মাছ, কিশমিশ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ ভালো করে ফুটিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে। নামানোর আগে গরম মসলার গুঁড়া ছিটিয়ে দিতে হবে।

দিলবাহারপ্রস্তুতি: ১৫ মিনিটতৈরি: ৪ মিনিটদিলবাহারউপকরণ: বড় কলা ২টি, ঘন টকদই ১ কাপ, ভ্যানিলা অ্যাসেন্স ১ চা-চামচ, কনডেন্সড মিল্ক ছোট ১ কৌটা, সবুজ আঙুর ১০-১২টি, কালো আঙুর ১০-১২টি, স্ট্রবেরি ৮-১০টি, কমলালেবু ১টি ও চকলেট চিপস ১ মুঠো পরিমাণ।
প্রণালি: কলা টুকরো করে কেটে নিন। অন্য পাত্রে দই ও কনডেন্সড মিল্ক একসঙ্গে ফেটে তাতে ভ্যানিলা অ্যাসেন্স মিশিয়ে নিন। আইসক্রিমের লম্বা গ্লাসে থাকে থাকে ফল সাজিয়ে নিন। প্রতিটি থাকের মধ্যে কিছু দইয়ের মিশ্রণ ঢেলে দিন। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। বের করে ওপরে চকলেট চিপস দিয়ে পরিবেশন করুন।

 
দই-মিল্ক শেকপ্রস্তুতি: ৮ মিনিট
তৈরি: ২ মিনিট
দই-মিল্ক শেকউপকরণ: মিষ্টি দই ২ টেবিল চামচ, ভ্যানিলা আইসক্রিম ৪ স্কুপ, দুধ (তরল) ৮ মিলিলিটার, সুগার সিরাপ ৬০ মিলিলিটার বা পরিমাণমতো, কলা ২টি, বরফ কুচি পরিমাণমতো।
প্রণালি: সবকিছু একসঙ্

Monday, April 18, 2016

বৈশাখের গরমে ঠান্ডা শরবত

গরমে এখন প্রাণ জুড়িয়ে দিতে পারে ঠান্ডা শরবত। এ সময়ের কয়েকটি শরবতের রেসিপি দিয়েছেন ফাতিমা আজিজ


ছবি: নকশা
কাঁচা আমের বোরহানি
উপকরণ: ঝুরি করা কাঁচা আম ২ কাপ (বেটে নিতে হবে), পানি আধা কাপ, টক দই ১ কাপ, চিনি আধা কাপ বা স্বাদ অনুযায়ী, লবণ দেড় চা-চামচ বা স্বাদ অনুযায়ী, কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা-চামচ, বিট লবণ সিকি চা-চামচ, রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ, পুদিনা পাতা কুচি সিকি কাপ, সরষে বাটা বা গুঁড়া ১ চা-চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, ভাজা লাল মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সাদা গোল মরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, ভাজা ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ ও বরফকুচি পরিমাণমতো।
প্রণালি: সমস্ত উপকরণ একত্রে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে তারের চালুনি বা স্ট্রেইনার দিয়ে ছেঁকে নিন। পরিবেশন করুন ঠান্ডা ঠান্ডা কাঁচা আমের বোরহানি।


ছবি: নকশালেবুর শরবত
উপকরণ: ঘন চিনির সিরা ৪ টেবিল চামচ বা স্বাদ অনুযায়ী, লেবুর রস ৩ টেবিল চামচ, পুদিনা পাতা কুচি ১০টি, পানি ২৫০ মিলিমিটার, বরফকুচি পরিমাণমতো।
প্রণালি: লেবুর রস ছেঁকে নিয়ে সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। পরিবেশনের আগে নিজের মনের মতো করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন ঠান্ডা ঠান্ডা লেবুর শরবত।

 
ছবি: নকশা
তরমুজের শরবত
উপকরণ: মাঝারি আকারের তরমুজ ১টি, পুদিনা পাতা ১৬টি, লবণ ১ চা-চামচ, ভাজা জিরার গুঁড়া ২ চা-চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ ও চিনি স্বাদমতো।
প্রণালি: তরমুজ টুকরো (কিউব) করে কেটে বিচি ছাড়িয়ে নিন। পুদিনা পাতা আলাদা করে ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে তারের চালনি বা স্ট্রেইনার দিয়ে ছেঁকে বরফকুচি দিয়ে পরিবেশন ক

কয়েক পদের ভর্তা

ভাতের সঙ্গে ভর্তা। পয়লা বৈশাখে খাবার পাতে এই পদ থাকবেই। চেনা উপকরণ দিয়েই তৈরি করে নিতে পারবেন নতুন স্বাদের ভর্তা। দেখুন সিতারা ফিরদৌসের রেসিপি
 
লাউপাতায় চ্যাপা ভর্তালাউপাতায় চ্যাপা ভর্তাউপকরণ: চ্যাপা শুঁটকি ৮টি, লাউপাতা ২০টি, পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ, রসুনের কোয়া ৪টি, কাঁচা মরিচ ১২-১৪টি, তেল ২ টেবিল-চামচ ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: শুঁটকি পরিষ্কার করে টেলে নিতে হবে। লাউপাতা ধুয়ে নিয়ে পানি ঝরান। ৮টি লাউপাতার সঙ্গে বাকি উপকরণ মিলিয়ে চুলায় ভাজা ভাজা করে নিয়ে বাটুন। বাকি লাউপাতা গরম পানিতে অল্প কিছুক্ষণ রেখে পানি থেকে উঠিয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। প্রতিটি পাতার মাঝখানে ২ টেবিল-চামচ করে শুঁটকি ভর্তা রেখে মুড়িয়ে নিন। এবার ননস্টিক ফ্রাইপ্যানের ওপর রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। অল্প জালে ১০-১২ মিনিট রান্না করতে হবে। তৈরি হয়ে গেলে পরিবেশন করুন।

মিষ্টিকুমড়া-গাজরের ভর্তা
মিষ্টিকুমড়া-গাজরের ভর্তাউপকরণ: মিষ্টিকুমড়া ছোট করে কাটা দেড় কাপ, গাজর ছোট করে কাটা আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল-চামচ, রসুন ৫-৬ কোয়া, লবণ পরিমাণমতো, চারমগজ বাটা ১ টেবিল-চামচ, সরিষার তেল ২ টেবিল-চামচ, মেথি গুঁড়া সামান্য ও মৌরি গুঁড়া আধা চা-চামচ।
প্রণালি: তেল, গুঁড়া মসলা, চারমগজ বাদে বাকি সব উপকরণ এক কাপ পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। শুকিয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে বেটে নিয়ে চারমগজ ও গুঁড়া মসলা মিশিয়ে গরম তেলে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে পরিবেশন করুন।

ডিম-বেগুনের ভর্তাডিম-বেগুনের ভর্তাউপকরণ: বড় গোল বেগুন ২৫০ গ্রাম, ডিম ২টি, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল-চামচ, কাঁচা মরিচ টোস্ট ২-৩টি, সরিষার তেল ১ টেবিল-চামচ, লবণ পরিমাণমতো ও ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল-চামচ।
প্রণালি: বেগুন ধুয়ে সামান্য চিরে এর গায়ে সামান্য তেল লাগিয়ে পোড়াতে হবে। মাঝে মাঝে উল্টিয়ে দিন। বেগুন পোড়ানো হয়ে গেলে পানিতে রেখে খোসা ছড়িয়ে বেগুন চটকিয়ে নিন। ডিম অর্ধেক সেদ্ধ করে গরম অবস্থায় চটকিয়ে বেগুনের সঙ্গে মেলাতে হবে। এবার তেল, পেঁয়াজ, মরিচ, লবণ মাখিয়ে নিন ডিম-বেগুনের মিশ্রণের সঙ্গে। সবশেষে ধনেপাতা দিয়ে মেখে পরিবেশন করুন।­

শিম-ইলিশের ভর্তা
শিম-ইলিশের ভর্তাউপকরণ: মাঝারি আকারের ইলিশ মাছের টুকরা ৭টি, শিম ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল-চামচ, কাঁচা মরিচ ৮-১০টি, রসুন কোয়া ৪টি, ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, পোস্তদানা বাটা ১ টেবিল-চামচ ও সরিষা তেল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি: তেল ও পোস্ত বাটা বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে অল্প পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। পানি শুকিয়ে গেলে মাছের কাঁটা বেছে মিক্সি বা শিলপাটায় বেটে নিয়ে পোস্ত বাটা ও তেল দিয়ে মাখিয়ে পরিবেশন করুন।

টমেটো-স্ট্রবেরির ভর্তাটমেটো-স্ট্রবেরির ভর্তাউপকরণ: বড় আকারের টমেটো ৪টি, স্ট্রবেরি আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল-চামচ, শুকনা মরিচ ভাজা ৩-৪টি, লবণ পরিমাণমতো, চিনি ২ চা-চামচ বা পরিমাণমতো ও সরিষার তেল ২ টেবিল-চামচ।
প্রণালি: টমেটোর গায়ে তেল লাগিয়ে নিন। এবার পুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে টমেটো ছোট ছোট টুকরা করে নিন। স্ট্রবেরি অল্প পানি দিয়ে সেদ্ধ করুন। স্ট্রবেরি ও টমেটো ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। তেল, পেঁয়াজ, মরিচ, লবণ চটকিয়ে নিন ব্লেন্ড করা মিশ্রণটির সঙ্গে। এবার চিনি দিয়ে মাখিয়ে পরিবেশন করুন।

Saturday, October 24, 2015

মেজবানি মাংস

চট্টগ্রামের ঐতিহ্য মেজবান। এতে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় গরুর মাংসের নানা স্বাদের মজাদার পদ দিয়ে। তাই বলে বিশাল আয়োজন ছাড়া মেজবানি মাংসের স্বাদ কি নেওয়া যাবে না? যাবে। দেখে নিন জোবাইদা আশরাফের রেসিপি


মেজবানি মাংস
মেজবানি মাংসমেজবানি মাংস
উপকরণ–১: গরুর মাংস চার কেজি, পেঁয়াজ (অর্ধেক বাটা, অর্ধেক কুঁচি) ২ কেজি, আদাবাটা ২০০ গ্রাম, রসুনবাটা ২০০ গ্রাম, সাদা সরিষাবাটা ৫০ গ্রাম, চিনাবাদামবাটা ৫০ গ্রাম, নারকেলবাটা ২০০ গ্রাম, ধনে গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, গরমমসলা পরিমাণ মতো, টমেটো ১ কেজি, সরিষার তেল আধা কেজি, ঘি ৩৫০ গ্রাম, কাঁচা মরিচ ১০টি ও লবণ পরিমাণমতো।
উপকরণ-২: জিরা ২০ গ্রাম, ধনে ১০ গ্রাম, রাঁধুনি ১৫ গ্রাম, শুকনা মরিচ ১০টি ও তেজপাতা ৮টি।
উপকরণ-৩: মুখ চেরা এলাচি ৬টি, দারুচিনি (২ ইঞ্চি) ৩টি, লবঙ্গ ৮টি, গোলমরিচ আধা টেবিল চামচ, মেথি ২ টেবিল চামচ, জায়ফল ১টি, জয়ত্রী ১ টেবিল চামচ, রাঁধুনি আধা টেবিল চামচ ও জৈন ১ চা-চামচ।
প্রণালি: মাংস টুকরা করে ধুয়ে পানি ঝরাতে হবে। গরম পানি ও কাঁচা মরিচ ছাড়া ১ নম্বর উপকরণের সব মসলা ও ২৫০ গ্রাম ঘি দিয়ে মাংস মেখে একটি ভারী সসপ্যানে নিয়ে চুলায় বসাতে হবে। ২ কাপ পানি দিয়ে নেড়ে দিতে হবে। ২ নম্বর উপকরণের মসলাগুলো ভেজে গুঁড়া করে মাংসে দিতে হবে। ঢাকনা দিয়ে চুলায় মাঝারি আঁচে রান্না করতে হবে। মাঝেমধ্যে নেড়ে দিতে হবে। পানি শুকিয়ে এলে একটু পানি গরম করে দিতে হবে। বেশি দেওয়া যাবে না। মাখা মাখা ঝোল রাখতে হবে। এর মধ্যে ৩ নম্বর উপকরণের মসলা ভেজে গুঁড়া করে রাখতে হবে। মাংস সেদ্ধ হয়ে ওপরে তেল ভেসে উঠলে কাঁচা মরিচ, ৩ নম্বর উপকরণের গুঁড়া মসলা ও ১০০ গ্রাম ঘি দিয়ে নেড়ে নামাতে হবে। সার্ভিং ডিসে মেজবানি মাংস নিয়ে ওপরে বেরেস্তা দিয়ে পরিবেশন করা যাবে।
কালো ভুনা


কালো ভুনাউপকরণ-১: গরুর মাংস চার কেজি, পেঁয়াজবাটা দুই কাপ, রসুনবাটা পৌনে এক কাপ, আদাবাটা আধা কাপ, বাদামবাটা সিকি কাপ, সাদা সরিষাবাটা আধা কাপ, মরিচ গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, টকদই ২ কাপ, সরিষার তেল ১ কাপ, লবণ ও গরমমসলা পরিমাণমতো।
উপকরণ-২: পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ, সয়াবিন তেল ৩ কাপ, গরমমসলা টালা গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, গোলমরিচ টালা গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, জায়ফল টালা গুঁড়া ১টি, জয়ত্রী টালা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ ও কাঁচা মরিচ ১০ থেকে ১২টি।
প্রণালি: ১ নম্বর উপকরণ মাংসের সঙ্গে মেখে চুলায় দিয়ে রান্না করতে হবে। সেদ্ধ হওয়ার পর জন্য প্রয়োজনে ১ কাপ গরম পানি দিতে হবে। মাংস সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিতে হবে। অন্য সসপ্যানে ২ নম্বর উপকরণের তেল গরম করে মসলাগুলো দিয়ে দিতে হবে। এগুলো একটু বাদামি হলে গরুও মাংস ঢেলে দিতে হবে। তেলের ওপর অনেকক্ষণ কষিয়ে কালো হয়ে এলে ২ নম্বরের উপকরণগুলো দিয়ে আরেকটু নেড়ে নামিয়ে নিতে হবে। এরপর ভাত, খিচুড়ি বা পোলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন।
আখনি বিরিয়ানি
আখনি বিরিয়ানিউপকরণ-১: চিনিগুঁড়া চাল ২ কেজি, গরুর মাংস ৪ কেজি, পেঁয়াজ কুচি ২ কেজি, রসুনবাটা ২০০ গ্রাম, আদাবাটা ২০০ গ্রাম, সাদা সরিষা ৫০ গ্রাম, চিনাবাদাম ৫০ গ্রাম, নারকেল কুচি ২০০ গ্রাম, মরিচ গুঁড়া ৩ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, গরমমসলা পরিমাণমতো, টমেটো ১ কেজি, কাঁচা মরিচ ১০-১২টা, তেল ১ কাপ, ঘি ১ কাপ, জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, টকদই ২ কাপ, লবণ ও গরম পানি পরিমাণমতো।
উপকরণ-২: মুখ চেরা এলাচি ১০টি, দারুচিনি (২ ইঞ্চি) ৪ টুকরা, লবঙ্গ ১০টি, জায়ফল ১টি, জয়ত্রী ২ টেবিল চামচ, শাহি জিরা ২ চা চামচ, কেওড়া ২ টেবিল চামচ ও গোলাপজল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি: চাল ও মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। গরম পানি ছাড়া মাংসে ১ নম্বর উপকরণের মসলা, তেল ও ঘি মেখে চুলায় বসাতে হবে। মাঝারি আঁচে মাংস রান্না করতে হবে। মাঝেমধ্যে নেড়ে দিতে হবে। সেদ্ধ হলে চাল মাংসে ঢেলে দিয়ে পাঁচ মিনিট কষাতে হবে। এবার পরিমাণমতো গরম পানি দিতে হবে। অন্য দিকে উপকরণ–২–এর মসলা তাওয়ায় ভেজে গুঁড়া করে নিতে হবে। চাল ও মাংসের পানি শুকিয়ে এলে গুঁড়া মসলা দিয়ে দমে বসাতে হবে। চাল ফুটে উঠলে কেওড়া ও গোলাপজল দিতে হবে। কিছুক্ষণ দমে দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। বড় পাত্রে আখনি বিরিয়ানি নিয়ে বেরেস্তা ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে।

মেজবানি বুটের ডাল
মেজবানি বুটের ডাল
উপকরণ: বুটের ডাল ১ কেজি, গরুর মাংস (হাড়সহ) ২ কেজি, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা দেড় টেবিল চামচ, সাদা সরিষাবাটা ১ টেবিল চামচ, নারিকেল-সরিষা পেস্ট ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজবাটা ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, জিরা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, গরমমসলা পরিমাণমতো, সয়াবিন তেল ১ কাপ এবং লবণ, কাঁচা মরিচ ও টমেটো পরিমাণমতো।
প্রণালি: ডাল আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে হবে। গরুর মাংস হাড়সহ ধুয়ে নিতে হবে। সসপ্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ভাজতে হবে। একে একে সব মসলা দিয়ে তারপর মাংস ঢেলে ভাজতে হবে। মাংস ভালো করে কষানো হলে এবং সেদ্ধ হলে জ্বাল একটু বাড়িয়ে দিতে হবে। আরেকটু কষিয়ে গরম পানি দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে। এরপর কাঁচা মরিচ দিয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে হবে। নামিয়ে পরোটা বা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন।
নেহারি বা নলা হাঁজি
নেহারি বা নলা হাঁজিউপকরণ-১: গরুর পায়া (নলা) ৪টি, আদাবাটা ২ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজবাটা ১ কাপ, চিনাবাদামবাটা আধা কাপ, সাদা সরিষাবাটা ২ টেবিল চামচ, পোস্তবাটা ২ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া এক টেবিল চামচ, ধনে গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, জিরা গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ২ টেবিল চামচ এবং গরমমসলা ও লবণ পরিমাণমতো।
টকের জন্য: জলপাই, আমড়া বা তেঁতুল স্বাদমতো, কাঁচা মরিচ ১০-১২টি ও টমেটো ১ কেজি।
উপকরণ-২: গরমমসলা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল ১ কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ ও রসুন কুচি ৩ টেবিল চামচ।
প্রণালি: গরুর পায়া টুকরা করে ভালোভাবে ধুয়ে ১ নম্বর উপকরণের সব মসলা মেখে নিতে হবে। তারপর ডুবো পানি দিয়ে কয়েক ঘণ্টা সেদ্ধ করতে হবে। পায়ায় লাগানো মাংস ভালো করে সেদ্ধ হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে দিতে হবে। পানি কমে এলে আবার পানি দিতে হবে। এরপর টক, কাঁচা মরিচ ও টমেটো দিতে হবে। অন্যদিকে, আরেকটা সসপ্যানে ২ নম্বর উপকরণের তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুন কুচি ভাজতে হবে। এবার পেঁয়াজ, রসুনসহ তেল পায়ার ঝোলে ঢেলে দিতে হবে। গরমমসলার গুঁড়া দেওয়ার পর ঢাকনা দিয়ে পায়া আবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেদ্ধ করে নামিয়ে নিতে হবে।

ঝটপট ঈদের রান্না

চা আর ডিমভাজি ছাড়া আর কিছু হয়তো কোনো দিন বানাননি, তাই বলে কি ঈদের দিন বিশেষ কিছু তৈরি করবেন না! রান্না একদম না জানলেও ক্ষতি নেই। জেবুন্নেসা বেগম জানিয়েছেন কীভাবে খুব সহজে বানাতে পারেন মজাদার কিছু খাবার।

ইয়োগার্ট স্টাফড মার্বেল ব্রেডইয়োগার্ট স্টাফড মার্বেল ব্রেড
উপকরণ: মার্বেল ব্রেডের স্লাইস ৪টা, টক দই ১ কাপ, পুদিনাপাতা কুচি ৩ টেবিল চামচ, লেবুর খোসা কুচি পোয়া চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া পোয়া চা-চামচ।
প্রণালি: টক দইয়ের পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এবার টক দইয়ের সঙ্গে পুদিনাপাতা কুচি, লেমন রাইন্ড ও গোলমরিচের গুঁড়া মেশাতে হবে। এবার মার্বেল ব্রেডের ভেতর ঢুকিয়ে পছন্দমতো টুকরা করে পরিবেশন।
কোল্ড কফি


কোল্ড কফিউপকরণ: দুধ ১ কাপ, কফি ১ চা-চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, ক্রিম ১ টেবিল চামচ, বরফ কুচি (পছন্দমতো) ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি: ব্লেন্ডারে দুধ নিয়ে এর সঙ্গে চিনি ও কফি ঢেলে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এবার ক্রিম দিয়ে আবার ব্লেন্ড করে নিন। বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন।
সসেজ নুডলস স্যুপ

সসেজ নুডলস স্যুপউপকরণ: মুরগির মাংসের স্টক ৪ কাপ, টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ, চিকেন সসেজ ৫টা, লম্বা নুডলস পরিমাণমতো, সয়া সস ১ টেবিল চামচ, আদা কুচি ১ চা-চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ (টুকরা) আধা কাপ, গোলমরিচ গুঁড়া সামান্য, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, লবণ সামান্য।
প্রণালি: সসেজ এক ইঞ্চি আকারে কেটে নিতে হবে। নুডলস তিন ইঞ্চি লম্বা করে ভেঙে নিতে হবে। এবার প্রতিটি সসেজের ভেতর পাঁচ-ছয়টা করে নুডলস ঢুকিয়ে নিতে হবে। মুরগির স্টক গরম করে তাতে কর্নফ্লাওয়ার ও কাঁচা মরিচ ছাড়া বাকি সব উপকরণ ও নুডলস সসেজ দিয়ে দিতে হবে। কর্নফ্লাওয়ার সামান্য পানি দিয়ে গুলে তাতে দিয়ে দিতে হবে। সবশেষে কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। গরম গরম পরিবেশন করুন।
ট্রায়ফল পুডিং


ট্রায়ফল পুডিংউপকরণ: ভ্যানিলা আইসক্রিম ১ কাপ, কেক ১ কাপ, আপেল আধা কাপ, আঙুর ২ টেবিল চামচ, আম আধা কাপ, পছন্দমতো ফল আধা কাপ।
প্রণালি: কেক ছোট ছোট কিউব করে কেটে নিতে হবে। আপেল, আম ও অন্যান্য ফল কিউব করে কেটে নিতে হবে। বাটি বা গ্লাসে কেকের টুকরা বিছিয়ে এর ওপর ফল দিতে হবে। ওপরে আইসক্রিম দিতে হবে। পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন।

ইফতারিতে শরবত

ইফতারিতে এক গ্লাস বরফ কুচি দেওয়া শরবত তো চাই-ই। দেখুন ফাতিমা আজিজের দেওয়া কয়েক রকম শরবত তৈরির প্রণালি।

মসলাদার লাচ্ছিমসলাদার লাচ্ছিউপকরণ: টক দই ২ কাপ, পানি সোয়া এক কাপ, আদা ঝুরি (আড়াই সেন্টিমিটার) ১ টুকরা, জিরা গুঁড়া (টেলে নেওয়া) আধা চা-চামচ, লবণ ১ চা-চামচ, ব্রাউন সুগার ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া টালা পৌনে এক চা-চামচ, ধনেপাতা কুচি আধা টেবিল, চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ২টি।
প্রণালি: বাটিতে টক দই ভালো করে ফেটে নিয়ে পানি মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ ফেটে নিন। এবার আদা ঝুরি, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, টালা জিরা ও গোলমরিচ, লবণ এবং চিনি দইয়ের মিশ্রণে মিশিয়ে নিন। ব্লেন্ড করে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।
চা আর ফলের শরবত

চা আর ফলের শরবতউপকরণ: পানি আড়াই কাপ, দারুচিনি (এক ইঞ্চি) ১ টুকরা, লবঙ্গ ৪টি, চিনি ১ কাপ, চা পাতা আড়াই চা-চামচ, লেবুর রস একটি লেবুর, মৌসুমি যেকোনো ফলের রস ২ কাপ, লেবু ১ টুকরো, লেবুর খোসা মিহি কুচি আধা টেবিল চামচ, মালটা এক টুকরো, পুদিনা পাতা কুচি ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: একটি পরিষ্কার হাঁড়িতে পানির সঙ্গে দারুচিনি এবং লবঙ্গ দিয়ে ভালো করে ফুটতে দিন। পানি ফুটে উঠলে চা পাতা দিয়ে চুলা বন্ধ করে নেড়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে রাখুন। তারপর ছেঁকে চিনি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নেড়ে ঠান্ডা করে ফলের রস মিশিয়ে নিন। নেড়ে দু-তিন ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রাখুন। পরিবেশনের আগে ফ্রিজ থেকে বের করে লেবুর রস, খোসা কুচি এবং পুদিনাপাতা মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। এবার পরিবেশনের গ্লাসে এক টুকরো মালটা (কারণ এখানে মালটার রস ব্যবহার করা হয়েছে) পাতলা গোল করে কেটে চায়ের মিশ্রণ ঢেলে দিন। বরফ কুচি মিশিয়ে গ্লাসের মাথায় টুকরো লেবু গোল করে কেটে পরিবেশন করুন।
জাফরানি শরবত
জাফরানি শরবতউপকরণ: ঘন দুধ আড়াই কাপ, আমন্ড বা কাঠবাদাম কুচি ১ কাপ, মালাই ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, গোলাপজল ১ টেবিল চামচ, জাফরান আধা চা-চামচ।
প্রণালি: গোলাপজলে জাফরান ভিজিয়ে রাখুন। দুধের সঙ্গে চিনি এবং মালাই মিশিয়ে ভালো করে ফেটে নিন। সাজানোর জন্য কিছুটা বাদাম রেখে ব্লেন্ডারে বেিশর ভাগ বাদাম এবং দুধের মিশ্রণ ও গোলাপজলে মেশানো জাফরান দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। গ্লাসে ঢেলে ওপরে বরফ কুচি, বাদাম কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।
দইয়ের শরবত

দইয়ের শরবতউপকরণ: টক দই ১ কাপ, পানি ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, গোলমরিচ গুঁড়া সিকি চা-চামচ, রসুন বাটা আধা চা-চামচ, পুদিনাপাতা বাটা আধা টেবিল চামচ, বিট লবণ স্বাদমতো।
প্রণালি: বাটিতে দই এবং পানি ভালো করে ফেটে নিন। তারপর চিনি, রসুন বাটা, বিট লবণ, গোলমরিচ গুঁড়া এবং পুদিনাপাতা বাটা মিশিয়ে ভালো করে ফেটে নিন। ব্লেন্ডারে কিছু বরফ কুচি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।
আম-দইয়ের শরবত
আম-দইয়ের শরবতউপকরণ: পাকা আমের টুকরা করা ৪০০ গ্রাম, ১টি লেবুর খোসা কুচি, অর্ধেকটি লেবুর রস, ক্রিম ১ কৌটা বা ১৭০ গ্রাম, টক দই এক কাপের ৩ ভাগের ২ অংশ, চিনি ৬ টেবিল চামচ।
প্রণািল: আমের টুকরোগুলো ব্লেন্ডারে নিয়ে চিনি, লেবুর খোসা, রসসহ ব্লেন্ড করে নিন। তারপর তারের চালুনি দিয়ে চেলে নিয়ে খোসাগুলো ফেলে দিন। একটি বাটিতে দই এবং ক্রিম নিয়ে ভালো করে ফেটে নিন যতক্ষণ পর্যন্ত ঘন না হয়। তারপর দ্রুত আমের মিশ্রণ ঢেলে ভালো করে মিশিয়ে ফেটে নিন। তারপর দুই-তিন ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে ইফতারের আগে বের করে গ্লাসে ঢেলে নিন। ওপরে আম কুচি এবং সামান্য লেবুর খোসা কুচি ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।