Wednesday, September 30, 2015

আপ্যায়নে মিষ্টান্ন

ঈদের পরে বাড়িতে অতিথি আসা এখনো চলছে। অতিথি আপ্যায়নে খাবারের শেষে মিষ্টি তো লাগেই। আবার জলখাবারেও মিষ্টি অতুলনীয়। কয়েকটি মিষ্টান্নের রেসিপি দিয়েছেন জেবুন্নেসা বেগম
শাহি জর্দাশাহি জর্দা
উপকরণ: বাসমতী চাল ২ কাপ, চিনি ৩-৪ কাপ (স্বাদমতো), ঘি আধা কাপ, এলাচি-তেজপাতা-দারুচিনি কয়েকটা, কিশমিশ ১০-১২টি, পেস্তা বাদাম কুচি ১ টেবিল চামচ, কাঠবাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ, ছোট আকারের মিষ্টি আধা কাপ, মাওয়া ১ কাপ, লবণ সিকি চামচ, ফুড কালার (কমলা) আধা চা-চামচ।
প্রণালি: বাসমতী চাল, তেজপাতা, এলাচি ও দারুচিনি সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ চালের সঙ্গে ফ্রুট কালার মেশান। পাত্রে ঘি গরম করে কিশমিশ বাদাম অল্প ভেজে তুলে রাখুন। ভাত ঢেলে দিন। চিনি দিয়ে নাড়ুন, ভাজা বাদাম, কিশমিশ ও মাওয়া দিয়ে নামিয়ে নিন। ছোট ছোট মিষ্টি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
সেমাইয়ের জর্দাসেমাইয়ের জর্দা
উপকরণ: সেমাই ২০০ গ্রাম, চিনি ৩-৪ কাপ (স্বাদমতো), ঘি আধা কাপ, এলাচি ২টা, দারুচিনি ২ টুকরা, তেজপাতা ২টা, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, বাদাম ১ টেবিল চামচ, পেস্তাবাদাম ১ টেবিল চামচ, লবণ সিকি চা-চামচ, কোরানো নারকেল ১ কাপ।
প্রণালি: ঘিতে এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা দিয়ে ভাজুন। সেমাই ঢেলে দিন। বাদামি করে সেমাই ভাজুন। পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে নাড়তে থাকুন। লবণ ও চিনি এতে দিন। ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। নারকেল কোরানো দিন। ঝরাঝরা সেমাই হয়ে গেলে কিশমিশ ও বাদাম দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।
দুধ সেমাইদুধ সেমাই
উপকরণ: সেমাই ১০০ গ্রাম, দুধ ১ লিটার, চিনি আধা কাপ (স্বাদমতো), এলাচি ২টি, তেজপাতা ২টি, দারুচিনি ২ টুকরা, লবণ সিকি চা-চামচ, বাদাম ২ টেবিল চামচ, কিশমিশ ১ টেবিল চামচ, কোরানো নারকেল আধা কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: সেমাই হালকা বাদামি করে ভেজে নিন। দুধে এলাচি, দারুচিনি ও তেজপাতা দিয়ে নাড়ুন। সেমাই ও লবণ দুধে ঢেলে দিন। সেমাই সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন। কিশমিশ ও বাদাম অল্প ঘিয়ে ভেজে নিন। সেমাইয়ের ওপর ঢেলে পরিবেশন করুন।

ঈদের রান্না

ঈদের দিনে ঐতিহ্যবাহী নানা খাবার রাঁধবেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। ছবি: খালেদ সরকার‘ঈদের সকালবেলাটা শুরু হওয়া চাই মিষ্টিজাতীয় খাবারে। তবে এখনকার শিশুরা অতটা মিষ্টি পছন্দ করে না। আমার দুই ছেলেমেয়ে আদ্রিক আর আরোহী, ওরাও অনেকটা মিষ্টি পছন্দ না করার দলে।’ বলছিলেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। তবুও বাড়িতে সেমাই রান্না হয় ঈদের সকালবেলায়। ঈদের নামাজ সেরে ফিরলেই সবার মুখে ওঠে শাশুড়ির হাতের রান্না পরোটা-মাংস, প্রতিবছরই এমনটা হয়ে আসছে তাঁদের পরিবারে, জানালেন দীপা। আর তিনি নিজে করেন রোস্ট, পোলাও, রেজালা ইত্যাদি পদ। কোরবানির পর দুপুরের খাবারটা সারা হয় গরুর কলিজা দিয়ে। বিকেল নাগাদ মাংস কাটা শেষ হলে সদলবলে বেরিয়ে পড়েন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি মাংস বিলাতে, ফিরতে ফিরতে রাত, এভাবেই ঈদের দিনের সমাপ্তি।
পোলাওপোলাও
উপকরণ: পোলাওয়ের চাল আধা কেজি, সয়াবিন তেল ৪ টেবিল চামচ, দুধ আধা কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদাবাটা ২ চা-চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, এলাচি ২টি, দারুচিনি ২ ইঞ্চি ১টি, লবঙ্গ ২টি, লবণ ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৪টি ও পানি ১ লিটার।
প্রণালি: চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার পাত্রে সয়াবিন তেল ঢেলে নিন। তেল গরম হয়ে এলে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। এবার তাতে চাল ঢেলে ১০ মিনিট ভাজুন। যখন সুগন্ধ ছড়াতে শুরু করবে, তখন আদাবাটা, রসুনবাটা, এলাচি, দারুচিনি, লবণ ও লবঙ্গ দিয়ে এক মিনিট কষিয়ে পানি দিয়ে ঢেকে দিন। বলক উঠলে চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে দিতে হবে। এভাবে কম আঁচে ১৫ মিনিট রাখুন। এরপর ঢাকনা খুলে নেড়ে দিন। কাঁচা মরিচ আর দুধ দিয়ে একেবারে নিবু আঁচে ১০ মিনিট চুলায় রাখুন। রান্না হয়ে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
গরুর মাংসের রেজালা
গরুর মাংসের রেজালা
উপকরণ: গরুর মাংস আধা কেজি, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, শুকনো মরিচ গুঁড়া ২ চা-চামচ, জিরার গুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনে গুঁড়া ২ চা-চামচ, জায়ফল-জয়ত্রী গুঁড়া ১ চা-চামচ, লবণ ২ চা-চামচ, টকদই আধা কাপ, সয়াবিন তেল আধা কাপ ও আলুবোখারা ৬টি।
প্রণালি: গরুর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে সব উপকরণ মিশিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। এভাবে বেশি আঁচে ১৫ মিনিট কষিয়ে ২ গ্লাস পানি দিয়ে ঢেকে রাখুন। মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে তাতে আলুবোখারা দিয়ে পাঁচ মিনিট অল্প আঁচে চুলায় রেখে নামিয়ে নিন।
ডিমের কোর্মাডিমের কোর্মা
উপকরণ: ডিম ৪টি, টকদই আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৩-৪টি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, চিনি ২ চা-চামচ, লবণ ১ চা-চামচ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ ও সয়াবিন তেল ২ টেবিল চা-চামচ।
প্রণালি: ডিম সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। চুলায় বসানো পাত্রে তেল দিন। তেল গরম হয়ে এলে তাতে পেঁয়াজ কুচি ঢেলে দিন। পেঁয়াজ কুচির রং বাদামি হওয়ার আগেই আদা, রসুন ও লবণ দিয়ে কষিয়ে তাতে টকদই দিয়ে নিন। সামান্য কষিয়ে তাতে ডিমগুলো ছেড়ে দিন। তারপর ১ কাপ পানি, চিনি আর কাঁচা মরিচ দিন। এভাবে ১০ মিনিটের মাথায় রান্না হয়ে যাবে।
জেলো ডেজার্ট
জেলো ডেজার্ট
উপকরণ: বিস্কুট (ম্যারি) ৮টি, টকদই আধা কেজি, জেলো ক্রিম ১ প্যাকেট, কনডেন্সড মিল্ক ১টি, ক্রিম ১ কৌটা।
প্রণালি: টকদইয়ের পানি ঝরিয়ে নিন। একটি সমতল পাত্রের তলায় সমান্তরালে বিস্কুটগুলো সাজিয়ে রাখুন। অন্য পাত্রে টকদই, কনডেন্সড মিল্ক ও ক্রিম ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পাত্রে রাখা বিস্কুটগুলোর ওপর ঢালুন। আরেকটি পাত্রে হালকা কুসুম গরম পানিতে জেলো ক্রিম গুলিয়ে নিন এবং তা আগের মিশ্রণের ওপর ঢালুন। স্থির করে আধা ঘণ্টা এক জায়গায় রেখে দিন। এই সময়ের মধ্যে তিনটি স্তরের পুরো মিশ্রণ জমাট বাঁধবে। পরে কেটে পরিবেশন করুন।
মুরগির রোস্টমুরগির রোস্ট
উপকরণ: দেশি মুরগি ২টি (প্রতিটি ৪ টুকরা করে কাটা), পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদাবাটা ২ চা-চামচ, রসুনবাটা ২ চা-চামচ, শুকনো মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনে গুঁড়া ১ চা-চামচ, জায়ফল-জয়ত্রী গুঁড়া ১ চা-চামচ, গুঁড়া মসলা ১ চা-চামচ, চিনি ২ চা-চামচ, লবণ ২ চা-চামচ, টকদই আধা কাপ, সয়াবিন তেল ৪ টেবিল চামচ ও কাঁচা মরিচ ৬-৭টি।
প্রণালি: পাত্রে তেল গরম করে প্রথমে মুরগির টুকরাগুলো হালকা করে ভেজে নিন। ভাজা হলে তাতে চিনি বাদে সব উপকরণ দিন। ১ কাপ পানি দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। আবারও ১ কাপ পানি দিয়ে, চিনি ছিটিয়ে দিন। শেষে কাঁচা মরিচ দিয়ে পাত্রটি ঢেকে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপর নামিয়ে পরিবেশন করুন।

শেফের হাতে ভিন্ন স্বাদে

ঈদের দিনে বাড়িতেই রাঁধুন তারকা হোটেলের স্বাদের খাবার। সব সময়ের স্বাদে যোগ হবে ভিন্ন মাত্রা। রেসিপি দিয়েছেন হোটেল লা মেরিডিয়ান ঢাকার সু শেফ জাভিয়ের রোজারিও।
মিক্সড ফ্রুটস ভ্যানিলা মিলফ্যু
মিক্সড ফ্রুটস ভ্যানিলা মিলফ্যু
উপকরণ: পাফ পেস্ট্রি ৩-৪টি, নানা রকম ফল সাজানোর জন্য।
পেস্ট্রি ক্রিমের জন্য: দুধ ২৫০ গ্রাম, চিনি ৫০ গ্রাম, ডিম ২টি, ভ্যানিলা বিন অর্ধেকটি, ময়দা ১৩ গ্রাম, কর্নফ্লাওয়ার ১৩ গ্রাম।
শ্যানটিলি ক্রিম: হুইপিং ক্রিম ৫০০ গ্রাম, আইসিং সুগার ১৫০ গ্রাম, ভ্যানিলা ফ্লেভার ৫ গ্রাম, সাদা ভিনেগার ৫ গ্রাম।
প্রণালি: ওভেনে মচমচে করে পাফ পেস্ট্রি বেক করে নিন। পছন্দমতো আকারে কেটে নিন।
পেস্ট্রি ক্রিম: দুধ ও ভ্যানিলা বিন চুলায় ফুটতে দিন। আলাদা বাটিতে ডিম, চিনি, ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে নিন। দুধ ফোটা শুরু হলে তাতে ডিমের মিশ্রণ অর্ধেক পরিমাণ ঢেলে দিন। অনবরত নেড়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার বাকি অর্ধেক ডিমের মিশ্রণও ঢেলে দিন এবং নাড়তে থাকুন, যাতে দানা বেঁধে না যায়।
মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে চামচে একটু ক্রিম উঠিয়ে নিন। এবার চামচ উল্টে দেখুন ক্রিম পড়ে যায় কি না। যদি পড়ে যায় তাহলে আরও জ্বাল দিয়ে ঘন করুন। আর ক্রিম না পড়লে বুঝবেন পেস্ট্রি ক্রিম হয়ে গেছে। চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন।
শ্যানটিলি ক্রিম: সব উপকরণ মিশিয়ে ক্রিম বানিয়ে নিন।
পরিবেশন: পাফ পেস্ট্রি নিয়ে তাতে স্তরে স্তরে পেস্ট্রি ক্রিম ও শ্যানটিলি ক্রিম সাজান। মাঝে ইচ্ছেমতো ফল দিয়ে ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
কাবসা টমেটো রাইস
কাবসা টমেটো রাইস
উপকরণ: বাসমতী চাল ৫০০ গ্রাম, কর্ন অয়েল ৩ টেবিল চামচ, রসুন কুচি ১ টেবিল চামচ, টমেটো পেস্ট ৪ টেবিল চামচ, টমেটো কিউব ২ টুকরা, ক্যাপসিকাম কিউব ১ টুকরা, লবণ স্বাদমতো, চিকেন সিজনিং পাউডার ১ টেবিল চামচ, চিকেন স্টক কিউব ১টি, পানি ১ লিটার, পেঁয়াজ বেরেস্তা ও কাজুবাদাম সাজানোর জন্য।
প্রণালি: চাল ধুয়ে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন। পাত্রে তেল গরম করে রসুন দিয়ে দিন। হালকা বাদামি হলে টমেটো পেস্ট দিয়ে ২ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। পানি ঢেলে দিয়ে সিজনিং পাউডার ও চিকেন স্টক কিউব দিয়ে দিন।
ফুটে উঠলে চাল দিন। তিন মিনিট পর ক্যাপসিকাম ও টমেটো কিউব দিয়ে নাড়ুন। ঢাকনা দিয়ে অল্প আঁচে রাখুন। ২০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে নামিয়ে নিন। বেরেস্তা ও কাজুবাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন।
বিফ মেডালিয়ন উইথ ডাক লিভারবিফ মেডালিয়ন উইথ ডাক লিভার
উপকরণ: গরুর মাংস (টেন্ডারলয়েন, দুই টুকরা করে সমানভাবে কাটা) ১৬০ গ্রাম, অলিভ অয়েল ৫০ মিলিলিটার, হাঁসের কলিজা (পরিষ্কার করে টুকরা করা) ৮০ গ্রাম, ময়দা ৫০ গ্রাম, আলু (১ ইঞ্চি পুরু করে দুই ইঞ্চি ব্যাসে গোল করে কাটা) ৮০ গ্রাম, লবণ ও মরিচ স্বাদমতো
সাজানোর জন্য: অ্যাসপারাগাস লম্বা করে কাটা ২০ গ্রাম, গাজর কিউব ১০ গ্রাম, মাশরুম টুকরা ১০ গ্রাম, রোজমেরি ৫ গ্রাম, লাল মুলা ১০ গ্রাম, ব্রাউন সস ৫০ গ্রাম।
প্রণালি: স্বাদমতো লবণ ও মরিচ গুঁড়া দিয়ে মাংসের টুকরা মেখে কিছুক্ষণ ম্যারিনেট করুন। ছড়ানো প্যানে অলিভ অয়েল দিন। গরম হলে তাতে মাংস ছেড়ে দিন। দুপাশেই বাদামি করে ভাজুন। নামিয়ে গরম গরম পাত্রে রাখুন।
আলু: চুলায় পানি দিয়ে উঁচু তাপে পাঁচ মিনিট আলু সেদ্ধ করে নিন। নামিয়ে পানি ঝরিয়ে মাংস ভাজার তেলে আলু ভেজে নিন। দুপাশেই বাদামি করে ভাজুন।
হাঁসের কলিজা: ময়দায় হাঁসের কলিজা মেখে অলিভ অয়েল ভেজে নিন। ন্যাপকিনে রেখে তেল ঝরিয়ে নিন।
সাজানোর জন্য: সব উপকরণ অলিভ অয়েলে হালকা করে ভেজে নিন।
পরিবেশন: প্লেটে আলু এক টুকরা রেখে তার ওপর মাংস দিন। আবার আলু দিয়ে মাংস রাখুন। এবার সবার ওপরে হাঁসের কলিজা দিন। সবজি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ডেজার্টে নানা স্বাদ

সেমাই-পায়েস বাদ পড়ছে না। তার মধ্যেও থাকছে ভিন্ন স্বাদ। সঙ্গে ডেজার্টের আরও নানা রেসিপি তো রইল। দেখে নিন রোয়েনা মাহজাবীনের তৈরি ডেজার্টগুলো।
ব্লুবেরি চিজ ডেলাইট
ব্লুবেরি চিজ ডেলাইট
ব্লুবেরি চিজ ডেলাইট
উপকরণ: ক্রিম চিজ ২০০ গ্রাম, টকদই সিকি কাপ (ঘন), কনডেন্সড মিল্ক ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ (বা স্বাদমতো), লেবুর রস ১ চা-চামচ, ওরিও বিস্কুট মাঝারি ১ প্যাকেট, মাখন সিকি কাপ (গলানো), পিচ ফল (কিংবা পছন্দমতো যেকোনো ফল) পরিমাণমতো ও ব্লুবেরি সস পরিমাণমতো (কিনতে পাওয়া যায় সুপার শপগুলোয়)।
প্রণালি: ওরিও বিস্কুটের মাঝের ক্রিমটুকু ফেলে ভালোমতো গুঁড়া করে মাখন মিশিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে ক্রিম চিজ নিয়ে ভালোমতো বিট করুন। চিজ নরম ক্রিমের মতো হলে এতে একে একে টকদই, কনডেন্সড মিল্ক ও লেবুর রস দিন। পিচ ফল কেটে টুকরা করে রাখুন। এবার সাজানোর গ্লাস নিয়ে প্রথমে ওরিও বিস্কুটের গুঁড়ার আধা ইঞ্চি স্তর দিন। এরপর চিজের মিশ্রণ দিন এর ওপরে। এর ওপর পিচ ফলের কিছু টুকরা ছড়িয়ে দিয়ে আবার চিজের মিশ্রণ দিন। এবার ফ্রিজে জমতে দিন ১ ঘণ্টা। নামিয়ে ওপরে ব্লুবেরি সস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
ছানার সন্দেশ
ছানার সন্দেশ
ছানার সন্দেশ
উপকরণ: ছানা ২ কাপ, ব্রাউন সুগার পরিমাণমতো, সাদা চিনি ১ চা-চামচ, মাখন ২ টেবিল চামচ, ক্রিম ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ, হোয়াইট কুকিং চকলেট আধা কাপ (কোরানো), তরল দুধ ১ টেবিল চামচ ও ডার্ক কুকিং চকলেট পরিমাণমতো।
প্রণালি: চুলায় ছানা ও মাখন দিয়ে কিছুক্ষণ ভুনে নিন। এতে ব্রাউন সুগার ও সাদা চিনি দিয়ে ভুনতে থাকুন। এবার ক্রিম দিয়ে মিষ্টি পরখ করে নামিয়ে একটি গোলাকার পাত্রে পুরু করে চেপে চেপে বিছিয়ে দিন। ঠান্ডা হলে বরফি বা অন্য আকারে সন্দেশ কেটে নিন। এবার হোয়াইট চকলেট ও দুধ মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে কিছুক্ষণ দিয়ে গলিয়ে নিন। এটি সন্দেশের ওপর ঢেলে দিয়ে ফ্রিজে রাখুন। ৩০ মিনিট পর ডার্ক চকলেট একইভাবে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গলিয়ে ওপরে দিয়ে পরিবেশন করুন।
কুনাফা
কুনাফা
কুনাফা
উপকরণ: লাচ্ছা সেমাই ১ প্যাকেট, মাখন সিকি কাপ (গলানো), তরল দুধ সিকি কাপ, ছানা দেড় কাপ, কনডেন্সড মিল্ক ৩ টেবিল চামচ, ক্রিম ১ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, পানি ১ কাপের ৩ ভাগের ২ ভাগ, কমলার রস ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ চা-চামচ, চেরি বা বাদাম কুচি সাজানোর জন্য, ফুড কালার ১ ফোঁটা (কমলা বা যেকোনো)।
প্রণালি: চিনি পানি দিয়ে জ্বাল দিয়ে হালকা আঠালো হলে কমলা ও লেবুর রস দিয়ে শিরা তৈরি করে রাখুন। অন্যদিকে, সেমাইতে মাখন ও ধাপে ধাপে দুধ মিশিয়ে নিন যেন সেমাই দলা না পাকিয়ে যায়। হাত দিয়ে সেমাই ঝুরি ঝুরি করে নিন। এবার ছানা ভালোমতো ময়ান দিয়ে মিহি করে তাতে কনডেন্সড মিল্ক ও ক্রিম মিশিয়ে নিন। একটি প্যানে কিছু মাখন ও ফুড কালার ব্রাশ করুন চারপাশে। এবার প্রথমে সেমাইয়ের ১ ইঞ্চি পুরু একটা স্তর করুন। এ সময় প্যানের ভেতরে ধারগুলোতেও সেমাইয়ের স্তর দিন। এবার ছানার পুর দিন। ভালোমতো চেপে চেপে বসিয়ে দিন। সবশেষে আবার সেমাইয়ের স্তর দিয়ে চেপে চেপে ওভেনে ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে বেক করুন ৩০ মিনিট। নামিয়ে পরিবেশনের প্লেটে নিয়ে ওপরে শিরা ঢেলে দিন। এবার সাজিয়ে পরিবেশন করুন কুনাফা।
টুটি ফ্রুটি পুডিং
টুটি ফ্রুটি পুডিং
টুটি ফ্রুটি পুডিং
উপকরণ: গুঁড়া দুধ ২ টেবিল চামচ, দুধ ১ লিটার, কনডেন্সড মিল্ক সিকি কাপ, হুইপড ক্রিম পাউডার ২ টেবিল চামচ, চিনি প্রয়োজনমতো, চীনা গ্রাস ১২-১৫ গ্রাম, জেলো ১ প্যাকেট (লেমন, ম্যাঙ্গো বা অরেঞ্জ ফ্লেভার) ও টুটি ফ্রুটি পরিমাণমতো।
প্রণালি: চীনা গ্রাস কুচি করে ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। প্যানে দুধ জ্বাল দিন। ফুটে উঠলে গুঁড়া দুধ, কনডেন্সড মিল্ক ও হুইপড ক্রিম পাউডার মিশান। এবার একই সঙ্গে অন্য চুলায় চীনা গ্রাস ভেজানো পানিসহ চুলায় দিয়ে গলিয়ে নিন। গলে গেলে দুধের মিশ্রণে ঢেলে দিন। এবার নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। যে পাত্রে পুডিং জমাবেন, সে পাত্রে ১ প্যাকেট জেলো প্যাকেটের নিয়ম অনুযায়ী মিশিয়ে ঢেলে দিন। এর মধ্যে টুটি ফ্রুটি যোগ করুন। এবার জেলো মোটামুটি জমে গেলে ওপরে দুধের মিশ্রণ ঢেলে ফ্রিজে জমতে দিন সারা রাত, অথবা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। এরপর নামিয়ে উল্টে পরিবেশন করুন টুটি ফ্রুটি পুডিং।
সাবুদানার পায়েস
সাবুদানার পায়েস
সাবুদানার পায়েস
উপকরণ: তরল দুধ ২ লিটার, সাবুদানা ৩-৪ কাপ, চিনি স্বাদমতো, এলাচি ৩টা, কুকিং চকলেট ১ কাপ (মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গলিয়ে নেওয়া) ও তেজপাতা ১টি।
পদ্ধতি: দুধ জ্বাল দিয়ে দেড় লিটারে নামিয়ে আনুন। এ সময় সাবুদানা ডুবো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। দুধ ঘন হলে এলাচি, তেজপাতা ও চিনি দিন। সাবুদানা পানি ঝরিয়ে নিয়ে দুধে দিয়ে দিন। জ্বাল দিয়ে ঘন হলে নামিয়ে নিন। এবার এই পায়েস অর্ধেকটা নিয়ে তাতে ২ টেবিল চামচ গলানো চকলেট মিশিয়ে নিন। সার্ভিং কাপে প্রথমে চকলেট মেশানো পায়েস দিন। একটা জমে যাওয়ার পর ওপরে সাদা পায়েস ঢেলে দিন। সবশেষে ওপরে গলানো চকলেট ঢেলে পরিবেশন করুন।
চকলেট ফ্রুট ভাস
চকলেট ফ্রুট ভাসচকলেট ফ্রুট ভাস
চকলেট ফ্রুট ভাসচকলেট ফ্রুট ভাস
উপকরণ: সেমি সুইট কুকিং চকলেট পরিমাণমতো (কোরানো), বিভিন্ন রকমের ফল (আপেল, আনারস, আঙুর) ও বিভিন্ন রকমের স্প্রিংকলস (সাজানোর জন্য)।
প্রণালি: ফলগুলো খোসা ছাড়িয়ে কাঠিতে গেঁথে নিন। একটি কাপে কুকিং চকলেট কোরানো নিয়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ২০ সেকেন্ড করে দুবারে গলিয়ে নিন। ফলগুলো চকলেটে ডুবিয়ে স্প্রিংকলসে গড়িয়ে নিয়ে একটি ভাসে সাজিয়ে নিন। এবার ফ্রিজে রাখুন। পরিবেশনের আগে নামিয়ে নিন।

ভিনদেশি মিষ্টান্ন

চিজ কেক। ছবি: নকশা
চিজ কেক
চিজ কেক
উপকরণ
ক্র্যাকার্স বিস্কুট গুঁড়া ২ কাপ, নরম মাখন আধা কাপ, আইসিং সুগার আধা কাপ, ক্রিম চিজ ২ কাপ, ডিম ৬টা, চিনি ১ কাপ, টকদই ১ কাপ, লেমন জেস্ট (লেবুর খোসার সবুজ অংশ কুচি) ১ টেবিল চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স সিকি চা-চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ ও কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি
বিস্কুটের গুঁড়ার সঙ্গে মাখন ও চিনি মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। মোল্ডে বসিয়ে চেপে চেপে চিজ কেক বেইজ তৈরি করে নিন। এটি ফ্রিজে রেখে দিন।
ক্রিম চিজ ও চিনি বিট করে নিন। ভালোমতো মিশে গেলে ডিমের কুসুম আলাদা করে তাতে ঢেলে দিন। এবার এতে দই, কর্নফ্লাওয়ার, লেমন জেস্ট, ভ্যানিলা এসেন্স ও লেবুর রস মিশিয়ে দিন। ডিমের সাদা অংশ চিনি দিয়ে বিট করে ফোম তৈরি করুন। আস্তে আস্তে তা চিজ মিশ্রণের সঙ্গে মেশান। এবার ফ্রিজ থেকে মোল্ড বের করে চিজ মিশ্রণ ঢেলে দিন। ওভেনে ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ২০ মিনিট বেক করুন। নামিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
আপেল পাই। ছবি: নকশা
আপেল পাই
আপেল পাই
উপকরণ
সুগার পেস্ট: ময়দা ৮০০ গ্রাম, মাখন ৪০০ গ্রাম, আইসিং সুগার ২০০ গ্রাম, ডিম ২টি ও ভ্যানিলা এসেন্স কয়েক ফোঁটা।
ফিলিং: আপেল ৪টা, চিনি এক কাপের চার ভাগের তিন ভাগ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, দারুচিনি গুঁড়া ১ চিমটি ও কর্নফ্লাওয়ার দেড় টেবিল চামচ।
প্রণালি
সুগার পেস্টের সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। বেকিং ডাইসে পাতলা করে বিছিয়ে দিন। কিছুটা পেস্ট রেখে দিন।
আপেলের খোসা ফেলে ছোট ছোট কিউব করে কেটে চুলায় দিন। এতে ফিলিংয়ের বাকি উপকরণ দিয়ে নাড়ুন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিন।
সুগার পেস্টের ওপর ফিলিং দিয়ে দিন। এর ওপর রেখে দেওয়া পেস্ট দিয়ে ঢেকে দিন। ওপরে একটু ফেটানো ডিম ব্রাশ করে দিন। এবার ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে বেক করুন। নামিয়ে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
হোয়াইট চকলেট মুজ। ছবি: নকশা
হোয়াইট চকলেট মুজ
হোয়াইট চকলেট মুজ
উপকরণ
ডিম ৮টি, তরল দুধ ১ কাপ, চিনি ৩ টেবিল চামচ, হোয়াইট চকলেট গলানো ৩০০ গ্রাম, হুইপ ক্রিম ১ কাপ ও জেলাটিন ৩০০ গ্রাম।
প্রণালি
অল্প চিনি, ডিমের কুসুম ও কিছুটা তরল দুধ মিশিয়ে ফেটিয়ে নিন। এবার ধীরে ধীরে বাকি দুধটুকু মেশান। প্যাকেটের নিয়মমতো জেলাটিন ভিজিয়ে নিন। দুধের মিশ্রণে জেলাটিন দিন। এবার তাতে হোয়াইট চকলেট ও হুইপ ক্রিম মেশান। চুলায় পানি গরম করে তার ওপর একটি পাত্র রাখুন। এতে আস্তে আস্তে ডিমের সাদা অংশ ঢেলে হালকা নেড়ে নিন। তাতে চিনি দিয়ে ফেটিয়ে নিন। এবার গ্লাসে দুধের মিশ্রণ ও ডিমের সাদা অংশ ঢেলে ফ্রিজে রেখে দিন। জমে গেলে পরিবেশন করুন।
ফাজ। ছবি: নকশা
ফাজ
ফাজ
উপকরণ
ময়দা এক কাপের চার ভাগের তিন ভাগ, চিনি আধা কাপ, মাখন সিকি কাপ ও ২৫০ গ্রাম, ডিম ৪টি, ভ্যানিলা এসেন্স কয়েক ফোঁটা, বেকিং পাউডার আধা চা-চামচ, হোয়াইট চকলেট ১ কাপ, ফ্রেশ ক্রিম আধা কাপ ও আইসিং সুগার ১৫০ গ্রাম।
প্রণালি
ডিমের সাদা অংশ ও চিনি মিশিয়ে ফোম তৈরি করে নিন। এতে ডিমের কুসুম, ময়দা, বেকিং পাউডার, মাখন ও ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ ওভেনে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ২৫ মিনিট বেক করুন। ঠান্ডা হলে মাঝ বরাবর কেটে দুটি ভাগ করে নিন। এবার মাখন ও আইসিং সুগার বিট করে কেকের ওপর ঢেলে দিন। তার ওপর কেকের অন্য ভাগ বসিয়ে দিন। হোয়াইট চকলেট গলিয়ে ক্রিমের সঙ্গে মিশিয়ে এর ওপর ঢেলে দিন। জমে গেলে কেটে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

মাংসের নানা পদ

  গরুর মাংসের চেনা স্বাদে একটু বদল চাইছেন? দেখে নিন সিতারা ফিরদৌসের দেওয়া রেসিপিগুলো।
ইরানি ভুনা
ইরানি ভুনা
ইরানি ভুনা
উপকরণ
গরুর মাংস ৩ কেজি, কিশমিশ বাটা ১ টেবিল চামচ, আমন্ড বাদাম বাটা ২ টেবিল চামচ, পেস্তাবাদাম বাটা ১ টেবিল চামচ, খোবানি বাটা ২ টেবিল চামচ, আলু বোখারা বাটা ১ টেবিল চামচ, কাশ্মীরি মরিচ বা লাল মরিচগুঁড়া ১ টেবিল চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, জিরা বাটা ১ চা-চামচ, ধনে বাটা ১ চা-চামচ, গরম মসলাগুঁড়া ১ চা-চামচ, গোল মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, দারুচিনি ৪ টুকরা, বড় এলাচি ২টি, ছোট এলািচ ৪টি, লবঙ্গ ৬টি, টকদই আধা কাপ, পেঁয়াজকুচি দেড় কাপ, বাটার অয়েল ১ কাপ, তেল আধা কাপ, চিনি ১ চা-চামচ, জায়ফল-জয়ত্রীগুঁড়া আধা চা-চামচ, গোটা কাজু-আমন্ড-পেস্তা আধা কাপ, খোবানি ও আলু বোখারা আধা কাপ।
প্রণালি
আদা, রসুন, জিরা, ধনে বাটা, জায়ফল-জয়ত্রী, হলুদ, মরিচগুঁড়া, টকদই ও লবণ মাংসে মেখে রাখুন। ৪-৫ ঘণ্টা ম্যারিনেট করুন। মাঝে মাঝে নেড়েচেড়ে দিন। চুলায় তেল গরম করে আধা কাপ পেঁয়াজ লাল করে ভেজে তাতে মাখানো মাংস দিয়ে নেড়ে দিন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রান্না করুন, মাঝে মাঝে নেড়ে দিন। কিছুক্ষণ পর আস্ত আলু বোখারা ও খোবানি দিন। মাংস তেলের ওপর আসলে পানি দিয়ে সেদ্ধ করুন। অন্য পাত্রে বাটার অয়েলে পেঁয়াজ লাল করে ভেজে তাতে বাকি সমস্ত উপকরণ দিয়ে ভুনে নিন। এরপর এতে মাংস আমন্ড-পেস্তা-কাজু ও গরম মসলার গুঁড়া দিয়ে ভুনা ভুনা করে নামান।
কাটা মসলার মাংস
কাটা মসলার মাংস
কাটা মসলার মাংস
উপকরণ
গরুর মাংস ২ কেজি, পেঁয়াজকুচি ১ কেজি, আদা মিহিকুচি ২ টেবিল চামচ, রসুন ২ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচ ফালি ৬-৭টি বা পরিমাণমতো, কাঁচামরিচ (ফালি করা) পরিমাণমতো, আস্ত কাঁচামরিচ ৫-৬টি, দারুচিনি ৬ টুকরো, এলাচি ৬টি, লবঙ্গ ৬টি, তেজপাতা ৩-৪টি, আধা ভাঙা গোলমরিচ ১ চা-চামচ, টকদই আধা কাপ, লবণ স্বাদমতো, সরষের তেল ১ কাপ, বেরেস্তা আধা কাপ, টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ, আলুবোখারা ৬টি।
প্রণালি
বেরেস্তা ও আস্ত কাঁচামরিচ বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মাখিয়ে দু-তিন ঘণ্টা রেখে পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিতে হবে। প্রথম ১০ মিনিট বেশি জ্বালে তারপর অল্প জ্বালে রান্না করতে হবে। ঝোল কমে এলে বেরেস্তা, কাঁচামরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ চুলায় রেখে নামাতে হবে।
হাঁড়িবন্ধ
হাঁড়িবন্ধ
হাঁড়িবন্ধ
উপকরণ
গরুর মাংস বড় টুকরো করে কাটা ৬ কেজি, পেঁয়াজ ৪ টুকরা করে কাটা ১ কেজি, আদা কিমা ১ কাপ, রসুনকুচি সিকি কাপ, রসুন কোয়া আধা কাপ, শুকনা মরিচ ফালি আধা কাপ, গাজর মোটা করে কাটা ১ কাপ, গোলমরিচ আধা ভাঙা ২ চা-চামচ, দারুচিনি ৬ টুকরা, এলাচি ১০টি, লবঙ্গ ৮টি, তেজপাতা ৪টি, টমেটো (দুই ফালি করে কাটা) আধা কেজি, তেল ১ লিটার, পানি ৪ লিটার, লবণ ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, কাঁচামরিচ ৮/১০টি, গরম মসলাগুঁড়া ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি
বড় হঁাড়িতে পেঁয়াজ বেরেস্তা বাদে সমস্ত উপকরণ দিয়ে মাংস মাখিয়ে নিন। এবার আটা গুলে হাঁড়ির মুখে ভালো করে আটকে দিন। মাঝারি আঁচে ১ ঘণ্টা ফুটান। প্রথম দুদিন এভাবে ১ ঘণ্টা করে ৩ বেলা জ্বাল দিন। পরের ২/৩ দিন ১ ঘণ্টা করে ২ বেলা মাঝারি থেকে অল্প জ্বালে ফুটান। যেন নিচে লেগে না যায় খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে ৪/৫ দিন পর হঁাড়ির ঢাকনা খুলে কাঁচামরিচ, গরম মসলা ও বেরেস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
মাংসের জঙ্গল কারি
মাংসের জঙ্গল কারি
মাংসের জঙ্গল কারি
উপকরণ
গরুর মাংস জুলিয়ান করে কাটা ৫০০ গ্রাম, কারি পেস্ট (লাল শুকনো মরিচ ৪টি, রসুন ৪ কোয়া, লেমন গ্রাসের গোড়ার দিকের সাদা অংশ ১ টেবিল চামচ, আদাকুচি ২ চা-চামচ, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, ধনেপাতা ২ চা-চামচ। সব উপকরণ সামান্য লবণ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে), গাজর জুলিয়ান কাটা আধা কাপ, বেবি কর্ন (৪ টুকরো করে কাটা) ৪-৫টি, বরবটি জুলিয়ান কাটা আধা কাপ, টমেটো টুকরো ১ কাপ, সবুজ ক্যাপসিকাম জুলিয়ান কাটা আধা কাপ, পেঁয়াজ জুলিয়ান কাটা আধা কাপ, পালংশাক ১ কাপ, কাঁচামরিচ (৪ টুকরো করে কাটা) ২ টেবিল চামচ, আদা জুলিয়ান কাটা ১ টেবিল চামচ, বাটন মাশরুম (অর্ধেক করে কাটা) আধা কাপ, মাংসের স্টক ৩ কাপ, ফিশ সস ২ টেবিল চামচ, ডার্ক সয়া সস ২ টেবিল চামচ, ব্রাউন সুগার ২ চা-চামচ, তেল ৪ টেবিল চামচ, তাজা তুলসীপাতা ১ কাপ।
প্রণালি
পাত্রে তেল গরম করে কারি পেস্ট কষিয়ে নিন। মাংসের টুকরোগুলো কারি পেস্টে কিছুক্ষণ ভুনে মাংসের স্টক, ফিশ সস, সয়া সস, ব্রাউন সুগার দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। এবার সমস্ত সবজি দিয়ে ৭/৮ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে নিন। তুলসীপাতা দিয়ে নামিয়ে নিন।
কাজু-মাংসের সালাদ
কাজু-মাংসের সালাদ
কাজু-মাংসের সালাদ
উপকরণ
কোল্ড মিট অথবা সেদ্ধ মাংস জুলিয়ান কাটা ২ কাপ, গাজর জুলিয়ান কাটা ১ কাপ, টমেটো কুচি ১ কাপ, ক্যাপসিকাম জুলিয়ান কাটা আধা কাপ, স্প্রিং অনিয়ন সিকি কাপ, কাজুবাদাম ১ কাপ, সাদা গোলমরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, কাঁচামরিচকুচি ১ চা-চামচ, টমেটো সস ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, মেয়োনেজ আধা কাপ, সালাদ ড্রেসিং ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, আধা সেদ্ধ বেবি কর্ন আধা কাপ, মাখন ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি
১ টেবিল চামচ মাখন গরম করে তাতে মাংস ভেজে উঠিয়ে রাখুন। ১ টেবিল চামচ মাখন গরম করে সামান্য লবণ দিয়ে কাজুবাদাম ভেজে তুলে নিন। ঠান্ডা হলে সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মেখে নিন। এবার মেয়োনেজ দিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
কেরালা বিফ রোস্ট
কেরালা বিফ রোস্ট
কেরালা বিফ রোস্ট
উপকরণ
হাড় ছাড়া গরু বা খাসির মাংস ১ কেজি, নারকেল পাতলা করে কাটা ১ কাপ, নারকেল দুধ ২ কাপ, নারকেলের পানি ১ কাপ, আদা কিমা ১ টেবিল চামচ, রসুন কিমা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি দেড় কাপ, লাল মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, গরম মসলাগুঁড়া ১ চা-চামচ, ঘি আদা কাপ, কারিপাতা আধা কাপ, লবণ স্বাদমতো।
প্রণালি
মাংস চর্বি ও পর্দা বাদ দিয়ে জুলিয়ান করে কেটে নিন। প্রেশার কুকারে আধা কাপ পেঁয়াজ, আদা, রসুন, সমস্ত গুঁড়ামসলা, লবণ, নারকেলের পানি ও নারকেলের দুধ দিয়ে সেদ্ধ করে ঝোল শুকিয়ে নিন। চুলায় ঘি গরম করে কারিপাতা, নারকেলের টুকরা, বাকি পেঁয়াজকুচি ও কাঁচামরিচ ভেজে অর্ধেকটা তুলে নিন। এবার সেই পাত্রে মাংস ভেজে নিয়ে তুলে পরিবেশন পাত্রে ঢালুন। এর ওপরে কারিপাতা, নারকেলের টুকরার মিশ্রণ ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন।

ভিন্ন স্বাদে মগজ, কলিজা ও ভুঁড়ি

মাংসের পাশাপাশি মগজ, কলিজা বা ভুঁড়িও তো খাওয়া হবে। তবে সেসবই রাঁধতে পারেন একটু ভিন্ন ঢঙে। দেখে নিন ফারাহ সুবর্ণার রেসিপিগুলো
 
খাটাখাট। ছবি: খালেদ সরকার
খাটাখাট
খাটাখাট
উপকরণ
গরুর কিমা ১৫০ গ্রাম, গরুর কলিজা ২০০ গ্রাম, গরুর গুর্দা ২০০ গ্রাম, গরুর মগজ ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজ ২টি (বড়, কুচি), আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা দেড় চা-চামচ, মরিচগুঁড়া দেড় চা-চামচ (সঙ্গে কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে নিলে রং ভালো আসবে), হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ, গরমমসলা গুঁড়া ১ চা-চামচ, জায়ফল–জয়ত্রী গুঁড়া ১ চিমটি, টমেটো ২টি (বড়, পাতলা কুচি), ধনেপাতাকুচি ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস স্বাদমতো, লবণ স্বাদমতো ও তেল পৌনে ১ কাপ।
প্রণালি
কিমা সেদ্ধ করে নিন। কলিজা আর গুর্দা কিমা করে রাখুন। মগজ হালকা সেদ্ধ করে কিমা করে নিন। একটা প্যানে কিমা, কলিজা ও গুর্দা নিয়ে তাতে মরিচ-হলুদ-জিরা-ধনে গুঁড়া, আদা-রসুনবাটা ও লবণ দিয়ে ১২ থেকে ১৫ মিনিটের মতো সেদ্ধ করুন। তারপর আরেকটা প্যান বা বড় তাওয়ায় তেল নিয়ে পেঁয়াজ কুচি সোনালি করে ভেজে তাতে টমেটো কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নিন। এতে নরম করে সেদ্ধ করা কিমা, কলিজা ও গুর্দা দিয়ে ১২ থেকে ১৫ মিনিট রান্না করে নিন। এবার সেদ্ধ মগজ, গরমমসলা গুঁড়া, জায়ফল–জয়ত্রী গুঁড়া, কাঁচা মরিচ-ধনেপাতা কুচি, আদা কুচি ও লেবুর রস মিশিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট দমে রেখে দিন। তেল ওপরে উঠে এলে নামিয়ে নিয়ে চালের রুটি বা নান রুটির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
স্প্যাগেটি ইন মিট সস। ছবি: খালেদ সরকার
স্প্যাগেটি ইন মিট সস
স্প্যাগেটি ইন মিট সস
উপকরণ
স্প্যাগেটি ২৫০ গ্রাম, গরুর কিমা ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ ১টা (বড় আকারের, বাটা), রসুন ৫-৬ কোয়া (কুচি), পাকা টমেটো ৩টা (গরম পানিতে ডুবিয়ে তুলে খোসা আর বীজ ফেলে পেস্ট করে নিতে হবে), পাস্তা সস ২ টেবিল চামচ, টমেটো কেচাপ ১ টেবিল চামচ, অরিগেনো পাউডার আধা চা-চামচ, প্যাপরিকা পাউডার ১ চা-চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, মোজারেলা চিজ ৩ টেবিল চামচ (কুচি করা), চিনি ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, অলিভ ওয়েল ১ টেবিল চামচ ও সয়াবিন তেল ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি
প্যানে বেশি করে পানি ফুটিয়ে লবণ ও তেল দিয়ে আস্ত স্প্যাগেটি সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন।
প্যানে সয়াবিন তেল গরম করে তাতে রসুন কুচি ভেজে পেঁয়াজবাটা দিয়ে একটু ভেজে নিন। এবার শুকনা মরিচের গুঁড়া, টমেটো পেস্ট আর লবণ দিয়ে কষিয়ে কিমা দিয়ে আবারও কষিয়ে নিন। পানি শুকিয়ে গেলে গরম পানি দিয়ে কিমা সেদ্ধ করে নিন। তারপর তাতে পাস্তা সস, প্যাপরিকা পাউডার ও স্বাদমতো চিনি মিশিয়ে ঘন থকথকে অবস্থায় (সসের মতো) নামিয়ে নিন।
অন্য একটি প্যানে অলিভ ওয়েল দিয়ে তাতে সেদ্ধ করে রাখা স্প্যাগেটি আর অরিগেনো পাউডার দিয়ে একটু নেড়ে নামিয়ে নিন।
এরপর পরিবেশন পাত্রে প্রথমে স্প্যাগেটি বিছিয়ে দিয়ে তারপর অল্প করে মোজারেলা চিজ ছড়িয়ে দিয়ে তার ওপরে রান্না করে রাখা কিমা (মিট সস) সমান করে ছড়িয়ে দিন। ওপরে আবারও একটু মোজারেলা আর ধনেপাতা কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
মগজের টিকিয়া। ছবি: খালেদ সরকার
মগজের টিকিয়া
মগজের টিকিয়া
উপকরণ
গরুর মগজ ১টা (খাসির মগজও ব্যবহার করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে ৩–৪টি), কর্নফ্লাওয়ার ৩–৪ চা-চামচ (প্রয়োজনমতো), টোস্ট গুঁড়া প্রয়োজনমতো, ফেটানো ডিম প্রয়োজনমতো, পেঁয়াজ ১টা (বড়, কুচি), আদাবাটা আধা টেবিল চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা-চামচ, গরমমসলা গুঁড়া আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা-চামচ, পুদিনাপাতা কুচি দেড় চা-চামচ, ডিম ১টি, সুজি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো ও তেল ভাজার জন্য।
প্রণালি
পর্দা আর শিরা ভালো করে বেছে মগজ ধুয়ে নিন। হলুদ গুঁড়া, আদা-রসুনবাটা আর লবণ মিশিয়ে অল্প পানিতে মগজ সেদ্ধ করে নিন। এবার মগজটা মাঝারি কিউব করে কেটে নিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি, মরিচ কুচি, পুদিনাপাতা কুচি, গোলমরিচের গুঁড়া ও গরমমসলার গুঁড়া মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনমতো কর্নফ্লাওয়ার, টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়া ও ফেটানো ডিম মিশিয়ে গরম ডুবো তেলে সোনালি করে ভেজে নিন।
সবজি ভুঁড়ি। ছবি: খালেদ সরকার
সবজি ভুঁড়ি
সবজি ভুঁড়ি
উপকরণ
গরুর ভুঁড়ি আধা কেজি (ছোট করে কাটা), পেঁয়াজ ১টা (বড়), আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, গরমমসলা গুঁড়া আধা চা-চামচ, জায়ফল-জয়ত্রী-শাহি জিরা ১ চিমটি করে, টমেটো ২টি, আলু ২০০ গ্রাম (ছোট কিউব করে কাটা, চাইলে ওলকপি বা বেগুনও ব্যবহার করা যেতে পারে), মটরশুঁটি ১৫০ গ্রাম (ক্যান), ধনেপাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, পানি এক কাপের তিন ভাগের এক ভাগ ও তেল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালি
পেঁয়াজ, আদা-রসুনবাটা, হলুদ-মরিচ গুঁড়া, জায়ফল-জয়ত্রী-শাহি জিরা, টমেটো আর পানি ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। প্রেশার কুকারে তেল দিয়ে ব্লেন্ড করে রাখা মিশ্রণটা দিয়ে ২–৩ মিনিট কষিয়ে নিন। এবার ভুঁড়িটা দিয়ে লবণ আর গরমমসলার গুঁড়াও দিয়ে দিন। কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে একদম কম আঁচে চুলায় রেখে দিন। ছোট কিউব করে কাটা আলু অল্প লবণ–হলুদ মাখিয়ে হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। একইভাবে কিউব করে কাটা বেগুনও ব্যবহার করা যেতে পারে। আর যদি ওলকপি দিতে চান, তাহলে প্যানে পানি ফুটিয়ে তাতে কিউব করে কেটে রাখা ওলকপি দিয়ে ৩–৪ মিনিট ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। ৩০ মিনিট পর প্রেশার কুকারের ঢাকনা খুলে দেখুন ভুঁড়ি সেদ্ধ হয়েছে কি না। না হলে ঢাকনা দিয়ে আরও মিনিট দশেক রাখতে হবে। আর সেদ্ধ হয়ে গেলে ভাজা আলু, বেগুন কিংবা ওলকপি দিয়ে ঢেকে দিন। ৫–৭ মিনিট পর ঢাকনা খুলে মটরশুঁটি দিয়ে ঢেকে আরও মিনিট পাঁচেক রান্না করলেই সবজি ভুঁড়ি তৈরি হয়ে যাবে। নামানোর আগে কিছুটা ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিন।

পোলাও-খিচুড়ি

মাংসের নানা পদের সঙ্গে পোলাও কিংবা বিরিয়ানি তো চাই-ই। কল্পনা রহমান দিয়েছেন রেসিপি
ঝরঝরে পোলাও। ছবি: খালেদ সরকারঝরঝরে পোলাও
উপকরণ
পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, পেস্তা ও কাঠবাদাম আধা কাপ, ঘি ১ কাপ, এলািচ ৪টি, দারুচিনি ৫টি, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, তেজপাতা ২–৩টি, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, গরম পানি চালের দেড় গুণ, চিনি সিকি কাপ, আলু বোখারা ৭টি, লবণ প্রয়োজনমতো, কেওড়া জল ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৮–১০টি ও কিশমিশ সিকি কাপ।
প্রণালি
অল্প ঘিয়ে কিশমিশ ও বাদামগুলো ভেজে নিন। চাল ধুয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। হাঁড়িতে ঘি, বেরেস্তা, গুঁড়া দুধ, তেজপাতা, গরমমসলা, লবণ ও পানি দিন। ফুটে উঠলে চাল দিয়ে নেড়ে ঢাকনা দিয়ে বেশি জ্বালে রান্না করুন। চাল ও পানি সমান হলে আর একবার নেড়ে তাওয়ার ওপর মৃদু আঁচে দমে বসান। ১০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে বাদাম ও কিশমিশ ছড়িয়ে দিয়ে পোলাও হালকা চেপে দিন। আলু বোখারাগুলো পোলাওয়ের ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দিন। ওপরে অল্প বেরেস্তা ছড়িয়ে ১০ মিনিট দমে রেখে নামিয়ে পরিবেশন করুন।
পোলাওয়ের সঙ্গে যদি বাদামবাটা অথবা নারকেলবাটা দিতে চান, তাহলে যখন পানি ফুটানো হবে, তখনই দিয়ে দিতে হবে। ১ কেজি পোলাওয়ের জন্য ২ টেবিল চামচ করে দিতে হবে।
খানদানি খিচুড়ি ছবি: খালেদ সরকার 
খানদানি খিচুড়িউপকরণ
ক.
পোলাওয়ের চাল ৩ কাপ, মুগ ডাল ১ কাপ, মসুর ডাল ১ কাপ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, কাবাব মসলা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৭–৮টি, তেল আধা কাপের একটু কম, লবণ ১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, তেজপাতা ৪–৫টি, পানি চাল-ডালের দেড় গুণ পরিমাণ, মটরশুঁটি ১ কাপ, বুন্দিয়া আলু ১ কাপ, মসলাসহ যেকোনো আচার ২ টেবিল চামচ ও ঘি ২ টেবিল চামচ।
খ. গরুর মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ কুচি আধা কাপ, আদাবাটা দেড় চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, কাবাব মসলা ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল পরিমাণমতো, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ কাপ, পানি ১ কাপ, জিরা গুঁড়া ১ চা-চামচ ও টকদই আধা কাপ।
প্রণালিমাংস ছোট টুকরা করে কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। পেঁয়াজ বেরেস্তা বাদে সব উপকরণ দিয়ে মাংস মেখে নিন। প্রেশার কুকারে ১ কাপ পানি এবং মাংস দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে চুলায় বসান। ৫–৬টি হুইসেল দিলে নামিয়ে নিন। মুগ ডাল ভেজে ঠান্ডা করে নিন। চালের সঙ্গে মুগ ও মসুর ডাল মিশিয়ে ধুয়ে ১০ মিনিট ডুবো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। মটরশুঁটি লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। আলু সেদ্ধ করে ছিলে অল্প তেলে সামান্য লবণ দিয়ে ভেজে রাখুন। হাঁড়িতে তেল ও সব মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। তাতে চাল-ডালের মিশ্রণ দিয়ে ৩–৪ মিনিট কষিয়ে চাল-ডালের দেড় গুণ পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। চাল ও পানি সমান হলে তাতে রান্না করা মাংস, মটরশুঁটি, আলু ও আচার দিয়ে নেড়ে ওপরে ঘি ও বেরেস্তা ছড়িয়ে দিন। ২০ মিনিট তাওয়ার ওপর দমে বসান। এ সময় ঢাকনাটি মুখ ভেজা কাপড় দিয়ে জড়িয়ে দিতে হবে। এতে দম ভালো হবে। এবার নামিয়ে পরিবেশন।
কাবাব মসলা
এলাচি, দারুচিনি, জয়ফল, জয়ত্রী, শাহি জিরা, গোলমরিচ ও কাবাব চিনি অল্প অল্প নিয়ে হালকা ভেজে গুঁড়া করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কাবাব মসলা।

চটজলদি নাশতা


সবজির রোলসবজির রোলউপকরণ: পুরের জন্য: গাজর কুচি ৩ টেবিল চামচ, বাঁধাকপি কুচি ২ টেবিল চামচ, পেঁপে কুচি ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ২টি, ধনে পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ, টমেটো সস ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো, ডিম ১টি, বিস্কুটের গুঁড়া ১ কাপ।
রুটির জন্য: ময়দা ২ কাপ, ডিম ১টি, লবণ স্বাদমতো। প্রয়োজনমতো পানি ও বাকি সব উপকরণ দিয়ে গোলা তৈরি করে নিন। ফ্রাই প্যানে সামান্য তেল দিয়ে এক হাতা করে গোলা ছড়িয়ে দিন। এভাবে কয়েকটি রুটি তৈরি করুন।
প্রণালি: পুরের সব উপকরণ থেকে ডিম ও বিস্কুটের গুঁড়া ছাড়া বাকিগুলো মেখে নিন। এবার প্যানে তেলে এগুলো দিয়ে নাড়াচাড়া করে পুর বানিয়ে নিন। পুর কিছুটা ঠান্ডা হলে, রুটির মাঝে পুর দিয়ে রোল করে নিন। এবার ডিমের গোলায় ডুবিয়ে বিস্কুটের গুঁড়া মেখে ডুবো তেলে বাদামি করে ভেজে সস দিয়ে পরিবেশন করুন।

ছোলা-আলু চাট
ছোলা-আলু চাটউপকরণ: ছোলা সেদ্ধ (লবণ, আদা দিয়ে) ১ কাপ, গোটা আলু সেদ্ধ ১ কাপ, ডালের বড়া ৭-৮টি, তেঁতুলের মাড় ২ টেবিল চামচ, টালা পাঁচফোড়ন গুঁড়া ১ চা-চামচ, গুড় ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা-চামচ, টমেটো কুচি ১ টেবিল চামচ, শসা কুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, পুদিনা পাতা ৮-১০টি, আদা কুচি ১ চা-চামচ, ভাজা জিরা গুঁড়া আধা চা-চামচ, ধনে পাতা কুচি ১ চা-চামচ, শুকনো মরিচ টালা গুঁড়া সামান্য, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, টকদই ১ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো, মুড়ি (ইচ্ছা হলে)।
প্রণালি: সেদ্ধ আলু কিউব করে কেটে লবণ দিয়ে তেলে ভেজে নিন। বড় পাত্রে আলু ভাজা আধা ভাঙা করে নিন। ডালের বড়া আধা ভাঙা করুন। গুড় দিয়ে তেঁতুলের মাড় জ্বাল দিয়ে নিন। তারপর সেদ্ধ ছোলা এবং ওপরের সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে পরিবেশন করুন।

মোহিঙ্গামোহিঙ্গাউপকরণ: সেদ্ধ নুডলস ১ কাপ, চিকেন স্টক ১ কাপ, নারকেল দুধ ১ কাপ, তেলে ভাজা রসুন কুচি ১ চা-চামচ, হাড় ছাড়া মুরগির মাংসের ফ্রাই (ছোট ছোট টুকরা) ২ টেবিল চামচ। নারকেল কুচি, বেসন ও লবণ প্রয়োজনমতো (এগুলো একসঙ্গে মেখে ভেজে ৭-৮টি বড়া তৈরি করে নিন)। ভাজা চিংড়ি মাছ ৪-৫টি, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা-চামচ, টালা শুকনা মরিচ গুঁড়া সামান্য, পেঁয়াজ বেরেস্তা ১ টেবিল চামচ, থাই গ্রাস ২টি, লবণ স্বাদমতো।
প্রণালি: নারকেলের দুধ ও চিকেন স্টক জ্বাল দিয়ে সুপ তৈরি করে নিন। নুডলস ও অন্য সব উপকরণ একটি বড় পাত্রে নিন। এর ওপর স্যুপ ঢেলে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

লেবু-আনারস জুস
লেবু-আনারস জুসউপকরণ: আনারস কুচি ১ কাপ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ, চিনি আধা কাপ, পুদিনা পাতা চার-পাঁচটি, ঠান্ডা পানি ২ গ্লাস, বরফ কুচি প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: বরফ কুচি ও পুদিনা পাতা ছাড়া বাকি সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। ছেঁকে বরফ কুচি ও পুদিনা পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন।

বাতাবি লেবুর সালাদবাতাবি লেবুর সালাদউপকরণ: বাতাবি লেবু ১ কাপ, শুকনো মরিচ টালা গুঁড়া সামান্য, বিট লবণ ১ চিমটি, পুদিনা পাতা ৪-৫টি, চিনি ১ চা–চামচ, সরিষার তেল ১ চা-চামচ।
প্রণালি: বাতাপি লেবুর সঙ্গে বাকি সব উপকরণ হালকাভাবে মেখে পরিবেশন করুন।

রস পিঠারস পিঠা
উপকরণ: ময়দা দেড় কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, লবণ সামান্য, এলাচি গুঁড়া আধা চা-চামচ, তেল ভাজার জন্য। বাদাম কুচি ১ চা-চামচ।
শিরা তৈরি: ১ কাপ পানি, ১ কাপ চিনি, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস। সব উপকরণ জ্বাল দিয়ে শিরা তৈরি করুন।
প্রণালি: পরিমাণমতো গরম পানিতে ঘি ও সামান্য লবণ দিয়ে তাতে ময়দা দিন এবং নাড়ুন। খুব মসৃণ করে মেখে নিয়ে পাতলা রুটি বানিয়ে নিন। এই রুটি রোল করে জিলাপির মতো পিঠা তৈরি করুন এবং ডুবো তেলে ভেজে নিন। এবার শিরায় কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। ঠান্ডা করে বাদাম কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

রাইস ফ্রিটার্সরাইস ফ্রিটার্স
উপকরণ: সেদ্ধ ভাত বা রান্না করা পোলাও ২ কাপ, ডিম ১টি, মুরগির কিমা আধা কাপ, কাঁচা মরিচ কুচি ২টি, পেঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ, বাদাম কুচি ১ চা-চামচ, গরম মসলা গুঁড়া সামান্য, গোল মরিচ গুঁড়া, আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, পুদিনা পাতা চার-পাঁচটি, তেল ভাজার জন্য।
প্রণালি: তেল ছাড়া সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এ থেকে পছন্দমতো কয়েকটি বল বানিয়ে নিন। এগুলো ডুবো তেলে সোনালি করে ভেজে সস দিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

ইতালীয় স্বাদে...মজাদার খাবার

     
অ্যান্তোনিও গ্রাভাগনো। ছবি: খালেদ সরকারইতালির খাবার বলতেই যেন পিৎজা, পাস্তা। তবে তাতেই তো শেষ নয় ইতালীয় খাবারের সম্ভার। খোদ ইতালীয় শেফের দেওয়া রেসিপিগুলো দেখে নিন। রেসিপি দিয়েছেন র্যাডিসন ওয়াটার ব্লু ঢাকার এক্সিকিউটিভ শেফ অ্যান্তোনিও গ্রাভাগনো

তিলে টুনাতিলে টুনাউপকরণ: তাজা টুনা মাছ ৩০০ গ্রাম, তিল ৪০ গ্রাম, কালো গোলমরিচ ১০ গ্রাম, অলিভ অয়েল ২০ মিলিলিটার, লেবুর রস ১০ মিলিলিটার, রসুন ৫ গ্রাম, লবণ স্বাদমতো।
প্রণালি: টুনা মাছ কেটে পরিষ্কার করে নিন। লেবুর রস, অলিভ অয়েল, রসুন-গোলমরিচ থেঁতো করে এবং তিল দিয়ে মেখে দুই ঘণ্টা রাখুন। প্যানে তেল গরম করে মাছ দিন। ওপরটা বাদামি হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ভেতরটা নরম থাকবে। ঠান্ডা করে পাতলা করে কেটে পরিবেশন করুন।
সিসিলির সূর্য
 সিসিলির সূর্য
উপকরণ:
সাদা চকলেট ৩০০ গ্রাম, ফ্রেশ ডাবল ক্রিম ৫০০ গ্রাম, ডিম ৩টি, জেলাটিন ১০ গ্রাম, সাজানোর জন্য জ্যাম ২০ গ্রাম।
প্রণালি: সাদা চকলেট গলিয়ে নিন। ক্রিম কিছুটা ফেটিয়ে নিন। ডিমের কুসুম, ফ্রেশ ক্রিম জেলাটিন ও চকলেট একটি পাত্রে মিশিয়ে ফ্রিজে দু-তিন ঘণ্টা রাখুন। পাত্র উল্টিয়ে বের করে ওপরে জ্যাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
                                                 বিফ কারপাচ্চো
 বিফ কারপাচ্চো                                    উপকরণ: গরুর মাংসের ফিলে (টেন্ডারলয়েন ব্যবহার করতে হবে) ৩০০ গ্রাম, অলিভ অয়েল ২৫ মিলিলিটার, বেজিল পাতা ১৫ গ্রাম, রসুন কোয়া ১৫ গ্রাম, কালো গোলমরিচ গুঁড়া ৫ গ্রাম, বিট লবণ ৫ গ্রাম, পারমিজান পনির ৩০ গ্রাম, মাস্টার্ড ১০ গ্রাম।
প্রণালি: মাংস পরিষ্কার করে পনির ও বেজিল বাদে বাকি সব উপকরণ দিয়ে মেখে রাখুন। প্লাস্টিক শিট দিয়ে মুড়ে খুব শক্ত করে রোল করে নিন। ফ্রিজে রেখে জমিয়ে নিন। বের করে খুব সরু করে কেটে নিন। পছন্দমতো সবজি, বেজিল পাতা, পারমিজান ও অলিভ অয়েল দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
                                                          স্প্যাগেটি আলফ্রেডো
স্প্যাগেটি আলফ্রেডো                                                         উপকরণ: সেদ্ধ স্প্যাগেটি ৫০০ গ্রাম, মাখন ৫০ গ্রাম, ক্রিম ৫০০ গ্রাম, মোৎজারেল্লা চিজ ২০০ গ্রাম, পারমিজান চিজ ১০০ গ্রাম, লবণ ও মরিচ স্বাদমতো।
প্রণালি: প্যানে মাখন গলিয়ে তাতে ক্রিম দিন। একটু পর চিজগুলো দিয়ে দিন। তাতে সেদ্ধ স্প্যাগেটি দিয়ে ভালোমতো মিশিয়ে নিন। স্বাদমতো লবণ ও মরিচ গুঁড়া দিন। নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। ওপরে একটু ভাঙা পনির ছড়িয়ে দিন।

পিৎজা মারগারিটা
পিৎজা মারগারিটা
উপকরণ: পিৎজা ডো ১ কেজি, মোৎজারেল্লা চিজ ৫০০ গ্রাম, টমেটো সস কিংবা পিৎজা সস ২০০ গ্রাম, টমেটো টুকরা ২০০ গ্রাম, বেজিল পাতা ২০ গ্রাম, অরিগেনো ৫ গ্রাম।
ডোর জন্য: ময়দা ৬০০ গ্রাম, পানি ৩৫০ গ্রাম, অলিভ ওয়েল ৬০ গ্রাম, লবণ ১৫ গ্রাম, চিনি ১৫ গ্রাম, ইস্ট ৬ গ্রাম।
প্রণালি: ডোর সব উপকরণ মিশিয়ে ডো বানিয়ে পিৎজা ট্রেতে ছড়িয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। এর ওপর সস ঢেলে টমেটোর টুকরাগুলো দিয়ে দিন। সবার ওপরে মোৎজারেল্লা পনির এবং বেজিল ও অরিগেনো ছড়িয়ে দিন। ওভেনে ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ৬ মিনিট বেক করুন। বের করে গরম গরম পরিবেশন করুন।
রতোলো অল চকলাতো
রতোলো অল চকলাতো
উপকরণ: চিনি ৫০০ গ্রাম, মাখন ৫০০ গ্রাম, ডিম ২০টি (কুসুম আলাদা করা), ডার্ক চকলেট ৫০০ গ্রাম, ময়দা ৩০০ গ্রাম, ফ্রেশ ক্রিম ৭৫০ গ্রাম, কিশমিশ ৫০ গ্রাম, ওয়ালনাট ৫০ গ্রাম।
প্রণালি: ক্রিম হুইপ করে নিন। কিশমিশ ও ওয়ালনাট মিশিয়ে ফিলিং তৈরি করে নিন।
মাখন ও চিনি বিট করুন। তাতে একটা একটা করে ডিমের কুসুম মেশান। চকলেট গলিয়ে এতে দিয়ে বিট করুন। শেষে ময়দা দিয়ে মিশিয়ে ব্যাটার বানিয়ে নিন।
ডিমের সাদা অংশ বিট করে মেরাং বানিয়ে নিন। কেক ব্যাটারে মেরাং মেশান। বেকিং ট্রেতে বেকিং পেপার বিছিয়ে তাতে ব্যাটার ঢেলে ওভেনে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ১৫-২০ মিনিট বেক করুন। বের করে ওপরে ফিলিং বিছিয়ে শক্ত করে রোল করে নিন। ফ্রিজে ৩০ মিনিট রেখে বের করে গলানো চকলেট ছড়িয়ে দিন ওপরে। এবার ছোট গোল টুকরা করে কেটে পরিবেশন করুন।
তিরামিসু
তিরামিসুউপকরণ: ক্রিম চিজ ৫০০ গ্রাম, ডিম ৫টি, চিনি ২০০ গ্রাম, ফ্রেশ ডাবল ক্রিম ৩০০ গ্রাম, খাওয়ার জেলাটিন ২৪ গ্রাম, কফি ১০ গ্রাম, চকলেট ২৫ গ্রাম, স্পঞ্জ ফিংগার বা লেডি ফিংগার বিস্কুট (না পেলে স্পঞ্জ কেক ব্যবহার করতে পারেন) প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: বড় পাত্রে ক্রিম চিজ ও চিনি দিয়ে ভালোমতো ফেটান, যাতে মিশে গিয়ে গাঢ় হুইপড ক্রিমের মতো হয়। এবার পরিবেশন পাত্রে সাজান। আগেই কালো কফি বানিয়ে রাখুন। এ জন্য ছড়ানো পাত্রে সামান্য তরল কফি ছড়িয়ে দিন। এর ওপর বিস্কুট সাজান। কয়েক সেকেন্ড রাখলে বিস্কুট কফি শুষে নেবে। তবে একদম নরম যাতে না হয়। এভাবে আবার কফি ছড়িয়ে বিস্কুটের স্তর সাজান। অর্ধেক পরিমাণ বিস্কুট রেখে দিন। এবার এর ওপরে ক্রিম চিজ মিশ্রণ দিন। আবার কফি ও বিস্কুটের স্তর বানান। সবশেষে ক্রিমের আরেক স্তর দিন। এবার পাত্র ঢেকে কয়েক ঘণ্টা বা সারা রাত ফ্রিজে রাখুন। বের করে ওপরে সামান্য কোকো পাউডার ছিটিয়ে পরিবেশন করতে পারেন।

টমেটো মোৎজারেল্লা
টমেটো মোৎজারেল্লা
উপকরণ: চেরি টমেটো ৩০০ গ্রাম, মোৎজারেল্লা চিজ ১০০ গ্রাম, অলিভ অয়েল ২০ মিলিলিটার, বেজিল-পেসটো সস (কিনতে পাবেন সুপারশপে। না পাওয়া গেলে সামান্য তুলসী বাটা, রসুন, একটু অলিভ অয়েল মিশিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন) ২৫ গ্রাম, তুলসীপাতা (বেজিল) ১০ গ্রাম, লবণ ও শুকনা মরিচগুঁড়া এক চিমটি।
প্রণালি: টমেটো মাঝখানে কেটে বাটিতে রাখুন। তাতে অলিভ অয়েল ও বেজিল-পেসটো সস দিয়ে মাখান। লবণ-মরিচ ছিটিয়ে দিন। মোৎজারেল্লা হাত দিয়ে ভেঙে টমেটোর ওপর ছড়িয়ে দিন। ওপরে আরেকটু সস ছিটিয়ে, তাজা বেজিল দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।