ঈদের দিন নিজের সেরা রান্নাটা রেঁধে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ি। ঈদের সারা দিনই কাটান শ্বশুরবাড়িতে। জানালেন উপস্থাপক শারমিন লাকী।
‘চার বোনের এক ভাই হলেন আমার স্বামী। বাড়ির একমাত্র ছেলের বউ আমি। স্বামীর চার বোন মোহাম্মদপুরে থাকেন। আমরাও ঈদের দিন সকালে ওখানে চলে যাই। সঙ্গে অবশ্যই সবার প্রিয় খাবার থাকে।’ বললেন শারমিন লাকী।
তাঁর হাতের ইলিশ-পোলাও, দই-ইলিশ ও দেশি মুরগির রোস্ট সবাই খুব পছন্দ করেন। ঈদের চাঁদ দেখা গেছে, এ খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়েন রান্না নিয়ে। বাজার করা নিয়ে খুব খুঁতখুঁতে তিনি। বললেন, ‘এমনও হয়েছে, ইলিশ মাছ কখনো চাঁদপুর, কখনো বরিশাল থেকে কিনেছি। মাছ ভালো না হলে রান্না করে তৃপ্তি পাই না।’
শারমিন লাকী প্রায় ১৭ বছর ধরে মাংস খান না। ফলে ঈদের দিন মাছের নানা পদ খেতে পছন্দ করেন। ঝালজাতীয় খাবার তাঁর পছন্দ। ঈদের দিন চটপটি খেতে ভালোবাসেন।
এবারের ঈদ যেহেতু বর্ষায়, ভেবেছেন এবার ইলিশ-পোলাও রান্না করবেন। সঙ্গে থাকবে গরুর মাংসের মিট বল ও ফ্রুট ইয়োগার্ট। পড়াশোনার জন্য তাঁর ছেলে ইশরাক শায়ের এখন অস্ট্রেলিয়ায়। ছেলেকে ছাড়া এই প্রথম ঈদ করবেন শারমানি লাকী। তিনি বলেন, ‘ছেলের প্রিয় খাবারগুলো হয়তো রান্না করব না। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির জন্য ইলিশ-পোলাও করব। ছেলেকে ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না। ঈদের আমেজটাও ঠিক আসছে না।’
প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য শারমিন লাকী দিয়েছেন ঈদের বিশেষ রেসিপি
ইলিশ-পোলাও
প্রণালি: একটি পাত্রে তেল-ঘিয়ের মিশ্রণে ইলিশ মাছ, টকদই ও সব মসলা লবণ দিয়ে মাখিয়ে কড়াইয়ে করে চুলায় দিতে হবে। সামান্য পানি দিতে হবে। মাছ আধা সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিতে হবে। অন্য একটি পাত্রে পোলাওয়ের চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এখন আগের রাখা তেল-ঘিয়ের মিশ্রণে গরমমসলা ও তেজপাতা দিয়ে একটু নেড়ে এর মধ্যে পোলাওয়ের চাল দিয়ে আরেকবার নাড়তে হবে। এরপর পরিমাণমতো পানি দিতে হবে। পানি কমে এলে ওপরের চাল সরিয়ে আধা সেদ্ধ ইলিশ মাছগুলো বিছিয়ে তার ওপর আবার চাল দিতে হবে। এভাবে অল্প আঁচে ১০ মিনিট রেখে কাঁচা মরিচ দিয়ে পাত্রের ঢাকনা বন্ধ করে রেখে দিতে হবে। পরিবেশনের সময় বেরেস্তা দিতে পারেন।
ফ্রুট ইয়োগার্ট
প্রণালি: টকদইয়ের পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য সরু ছিদ্রের ছাঁকনি বা গামছা ব্যবহার করতে পারেন। এরপর দইকে ঘন করার জন্য ক্রিম দিতে হবে। মিষ্টি করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন কনডেন্সড মিল্ক। এরপর একে একে সব ফল দিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। অতিথি এলে ফ্রিজ থেকে বের করে পরিবেশন করুন।
বিফ মিট বল
গ্রেভির জন্য: তেল ও ঘির মিশ্রণ ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজের কুচি ১ কাপ, পেঁয়াজ বাটা আধা কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, টকদই আধা কাপ, পোস্তদানা বাটা আধা চা-চামচ, বাদাম বাটা ১ চা-চামচ, জয়ফল-জয়ত্রী-ছোট এলাচি-দারুচিনি একসঙ্গে বাটা ১ টেবিল চামচ, আলু বোখারা ২-৩টি, মরিচের গুঁড়া সামান্য পরিমাণ ও কাঁচা মরিচ ৭-৮টি।
প্রণালি: মাংস মিহি করে বেটে নিতে হবে। পাউরুটি গুঁড়া মাংসের সঙ্গে মেশাতে হবে। মসলা দিয়ে মাখিয়ে গোল গোল করে বল বানাতে হবে। তেল ও ঘির মিশ্রণ পাত্রে গরম করে তাতে পেঁয়াজ ভাজতে হবে। পেঁয়াজ বেরেস্তা হলে তেল থেকে তুলে নিতে হবে। এবার একটি পাত্রে তেলে পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটা, মরিচের গুঁড়া ও টকদই দিয়ে কষাতে হবে। বাকি বেরেস্তা আরেকটি পাত্রে নিয়ে বাদাম বাটা, পোস্তদানা বাটা, গরমমসলা বাটা ও টকদইয়ের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ আগের কষানো মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে চুলায় দিয়ে আরেকটু কষাতে হবে। এবার মিট বলগুলো এই মিশ্রণে ঢেলে দিতে হবে। অল্প আঁচে ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। ভালো করে ফুটলে কাঁচা মরিচ ও আলু বোখারা দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। পরিবেশনের সময় ওপরে বেরেস্তা ও বাদাম ভাজা দিতে পারেন।
0 comments:
Post a Comment