Friday, October 2, 2015

রোগীর মুখরোচক পথ্য

Untitled-7জ্বর বা ঠান্ডা থেকে সেরে উঠেছেন। কিন্তু একদম রুচি নেই মুখে। অথচ রোগ থেকে ওঠার পর শরীরে চাই বাড়তি শক্তি। খেতে তো হবেই।রোগ সেরে যাওয়ার পর রুচির পরিবর্তনের জন্য লঘুপাক, সহজপাচ্য এসব খাবার দিতে হবে। হঠাৎ করে ভারী খাবার দিলে সমস্যা হতে পারে। অনেক তেল, মসলা দিয়ে খাবার দেওয়া যায় না। আস্তে আস্তে সহনীয় করতে হবে। এক ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টা পরপর বারবার একটু একটু করে সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে।’ বলেন বারডেমের পুষ্টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আখতারুন নাহার। তাঁর পরামর্শ হলো:
  •  অসুখ সেরে যাওয়ার পর শরীরে ক্যালরি জোগানোর জন্য বেশি ক্যালরির তরল খাবার দিতে হবে। লেবুর শরবত, পাতলা দুধ, দুধের মধ্যে গ্লুকোজ, কাস্টার্ড, দুধ-কলা ব্লেন্ড, দুধ ও আমের রস দিয়ে মিল্ক শেক তৈরি করে দেওয়া যায়। একটু বা অল্প চিনি দেওয়া যেতে পারে এর সঙ্গে।
  •  দুধের মধ্যে পাউরুটি ভিজিয়ে নরম করে খেতে দেওয়া যেতে পারে।
  •  চিড়া দুধ দিয়ে ভিজিয়ে গুড় বা চিনি দেওয়া যেতে পারে।
  • পুডিং দিলে অল্প খাবারেই বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়।
  •  দুধ খেতে না পারলে ছানা দেওয়া যেতে পারে।
  •  জ্বরের পর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এ জন্য সাবুর মতো একটু তরলজাতীয় খাবার, দুধের সঙ্গে সাবুর দানা মিশিয়ে রান্না করে দেওয়া যেতে পারে। সাবুর দানা দুধ ছাড়াও দেওয়া যাবে। সাবু রান্না করার পর তাতে লেবুর রস মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
  •  আতপ চাল, পোলার চাল দিয়ে জাউ ভাত করে সঙ্গে মাছের পাতলা ঝোল দেওয়া যেতে পারে।
  •  ফলের মধ্যে আমলকী, কমলা, বাতাবিলেবু, কাগজি লেবু, আনারস—এসব খেতে পারেন। তাতে রুচি ফিরে আসে।
  •  সেরে উঠেই মাছ, মাংস বেশি খেলে কিডনিতে চাপ পড়বে। ধীরে ধীরে শক্ত খাবারে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।
  •  আলু সেদ্ধ করে দেওয়া যেতে পারে খাওয়ার জন্য।
  •  অনেক সময় অসুস্থ রোগীর ডিমে গন্ধ লাগে। তাই ডিমটা হালকা পানি পোচ করে দেওয়া যেতে পারে।
  •  মাছ, মাংসের সবজি মিশিয়ে স্যুপ, সবজি দিয়ে স্যুপ করতে হবে। পেঁপে, গাজর, আলু সব মিশিয়ে ডিম দিয়ে স্যুপ করা যেতে পারে।
  •  ছোট বাচ্চাকে স্যুপটা দিলে তা ব্লেন্ড করে দিতে হবে।
  •  আটার রুটি, মোটা চালের ভাত না দেওয়াই ভালো। মাত্র অসুস্থতা থেকে উঠলে হজম হবে না।
এ সময়কার খাবার হতে হবে সহজপাচ্য। যেকোনো রোগের জন্য রোগীকে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। সাধারণত জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। পরিপাকতন্ত্র ঠিকমতো কাজ করে না। তাই যেকোনো অসুখ থেকে একটু সুস্থ হলেই সহজপাচ্য ও তরলজাতীয় খাবার দিতে হবে। ‘জ্বরে পিত্ত গরম হয়ে যায়; সে জন্য তেল, মসলাযুক্ত ভাজা খাবার না খাওয়াই ভালো।’ বলছিলেন রান্নাবিদ সিতারা ফেরদৌস।
  • সেরে ওঠার পর দিতে পারেন নিমপাতার ভর্তা বা ভাজি, কালিজিরা ভর্তা, বেতের আগা সবজির সঙ্গে দিয়ে রান্না, করলা ভাজি, কলার থোড় মাছ বা মাংসের তরকারি দিয়ে রান্না ইত্যাদি।
  •  মৌসুমি সবজি, যেমন লাউ, চিচিঙ্গা, পটোল—এসব অল্প তেল-মসলা দিয়ে রান্না করে দেওয়া যেতে পারে।
  •  জিওল মাছ, যেমন শিং ও মাগুর মাছ, বাঁশপাতা মাছ, পাবদা মাছ, মলা ও ঢেলা মাছ অল্প তেল দিয়ে লাউ, চিচিঙ্গা ইত্যাদি সবজির সঙ্গে টমেটো, ধনেপাতা দিয়ে রান্না করে পরিবেশন করা যেতে পারে।
  •  এ সময় বাচ্চা মুরগির সঙ্গে ধনেপাতা, লেবুর রস দিয়ে অল্প তেল-মসলায় রান্না করে দেওয়া যেতে পারে।
  •  বাচ্চা মুরগির স্যুপ রান্না করে দিতে পারেন অসুস্থ ব্যক্তিকে। স্যুপের সঙ্গে টমেটোর সস, লেবুর রস, ধনেপাতার চাটনি, কাগজিলেবুর আচার খেতে
পারেন রুচি বাড়ানোর জন্য।
  •  মৌসুমি ফল আনারস, জাম্বুরা, পেয়ারা, আনার, আমলকী, আপেল, মাল্টা—এসব খাওয়ানো যেতে পারে।
  •  শরীর সুস্থ হলেও পানির অভাব পূরণের জন্য ডাবের পানি, লেবুর শরবত, স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে।

মুরগির স্যুপ
Untitled-8উপকরণ: চিকেন স্টক দেড় লিটার, হাড় ছাড়া মুরগির বুকের মাংস আধা কাপ, সয়া সস ১ চা-চামচ, সুইট কর্ন ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি ২ চা-চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ৩ টেবিল চামচ, মুরগির ডিম ১টি, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, সাদা সিরকা ১ টেবিল চামচ ও মাখন ১ চা-চামচ।

প্রণালি: মাংস ছেঁচে সয়া সস দিয়ে মাখিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রাখুন। ফুটন্ত স্টকের মধ্যে মাংস ঢেলে দিয়ে ১০ মিনিট পর মাংস তুলে ঠান্ডা করে হাত দিয়ে চটকে নিন। এটি স্টকের মধ্যে ঢেলে দিন। এ থেকে ১ কাপ স্টক নিয়ে ঠান্ডা করে তাতে কর্নফ্লাওয়ার গুলিয়ে বাকি স্টকের মধ্যে ঢেলে দিন। ডিম ও মাখন বাদে বাকি সব উপকরণ পর্যায়ক্রমে স্টকের মধ্যে ঢালুন। এরপর ডিম ফেটিয়ে ফুটন্ত স্যুপের মধ্যে নেড়ে নেড়ে মেশাতে হবে। মাখন দিয়ে চুলা বন্ধ করুন। স্যুপ পরিবেশনকালে সিরকার মধ্যে কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে ও টমেটো সস বা চিলি সসের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।

স্টকের জন্য প্রণালি: ১৪ বা ১৫ ছটাক ওজনের মুরগি ১টি, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা আধা চা-চামচ, রসুন বাটা আধা চা-চামচ, তেজপাতা ছোট ১টি, লবণ স্বাদমতো ও পানি ৩ লিটার।
প্রণালি: সব উপকরণ জ্বাল দিয়ে অর্ধেক হলে ছেঁকে নিতে হবে।



 বাচ্চা মুরগির ঝোল
 Untitled-10
উপকরণ
: বাচ্চা মুরগি ১টি, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা আধা চা-চামচ, আদা বাটা আধা চা-চামচ, জিরা বাটা আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া সিকি চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, তেল ১ টেবিল চামচ, লবণ অল্প, তেজপাতা ১টি, দারুচিনি ২ টুকরা, এলাচি ২টি, লবঙ্গ ২টি, টকদই ৩ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ২-৩টি, কাঁচা পেঁপে ১ কাপ (কিউব করে কাটা) ও গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা চামচ।
প্রণালি: মুরগি চামড়া ছিলে পরিষ্কার করে পছন্দমতো টুকরা করে কেটে দই ও লবণ মাখিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট রাখে নিন। তেল গরম করে সব মসলা অল্প পানি দিয়ে ভুনে মাংস কষান। এবার গরম পানি দিয়ে মাংস ঢেকে নিন। মাংস সেদ্ধ হয়ে ঝোল কমে এলে আস্ত কাঁচা মরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে নামিয়ে ফেলুন।


 কাঁচকলায় শিং মাছের ঝোল

Untitled-9



উপকরণ: শিং মাছ ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা আধা চা-চামচ, জিরা বাটা আধা চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া সিকি চা-চামচ, কাঁচকলা (মাঝারি) ২টি, লবণ স্বাদমতো, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, টমেটো টুকরা করে কাটা ১টি ও ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি: কাঁচকলা টুকরা করে হলুদ ও গরম পানি দিয়ে কচলে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। মাছ টুকরা করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে লবণ ও হলুদ মাখান। এরপর গরম তেলে পেঁয়াজ ভেজে সব বাটা মসলা ও গুঁড়া মসলা ভুনে মাছ দিয়ে কষাতে হবে। সামান্য পানি দিয়ে মাছ চার থেকে পাঁচ মিনিট সেদ্ধ করতে হবে। মাছ তুলে ওই হাঁড়িতে কলা দিয়ে কষিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ঢেকে সেদ্ধ করে নিন। কলা সেদ্ধ হয়ে গেলে মাছ, টমেটো ও কাঁচা মরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ওপরে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামাতে হবে। গরম ভাত ও শিং মাছের ঝোলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে খাবারে রুচি আসবে।



পোরিজ

Untitled-11
উপকরণ: হোয়াইট ওটস ৪ টেবিল চামচ, দুধ ৩ কাপ ও চিনি প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: দুধ ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে তাতে হোয়াইট ওটস দিতে হবে। পরিবেশনের সময় প্রয়োজনমতো চিনি মিশিয়ে খেতে হবে। চাইলে পছন্দমতো ফলের কুচি দিয়ে (যেমন: কলা, আম, পাকা পেঁপে, আপেল ইত্যাদি) পোরিজ খাওয়া যায়।

0 comments:

Post a Comment